সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক সদস্য ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে কয়েক ডজন বিস্ফোরক ড্রোন ছোড়ার দাবি করেছে ইরান। রোববার হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে সোমবার ভোর থেকে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলা হওয়ার খবর অস্বীকার করেছে। ইরানের সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল থেকে আল মিনহাদ ঘাঁটির যেসব স্থানে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ও সেনাসদস্য অবস্থান করেন, সেসব জায়গা লক্ষ্য করে কয়েক ডজন বিস্ফোরক ড্রোন পাঠানো হয়েছে। ইরান ঘাঁটিটিকে বিদেশি বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরবরাহ ও বিমান পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছে। [BANGVIEWS-POST:4838]তেহরানের দাবি, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে আরও পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানি সেনাবাহিনী। তবে ইরানের এই দাবির পর ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আল মিনহাদ বিমানঘাঁটি হামলার শিকার হয়েছে বলে যেসব খবর ছড়িয়েছে, সেগুলো সঠিক নয়। ফলে ইরানের পাঠানো ড্রোনগুলো ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে কিংবা মার্কিন সেনা বা সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য জানিয়েছে, সোমবার ইরানের দিক থেকে দেশটির দিকে এগিয়ে আসা একটি ড্রোন সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমার ওপর শনাক্ত করা হয়। এরপর দেশটির বিমানবাহিনী ড্রোনটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তবে এটিই ইরানের দাবি করা আল মিনহাদ অভিযানসংক্রান্ত ড্রোনগুলোর একটি কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। এর আগে রোববার ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ওই ব্যবস্থা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক মাইন বহনকারী রকেট ছোড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইরানি বাহিনী। আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য ‘আসন্ন হুমকি’ ঠেকাতে সীমিত ও নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। [BANGVIEWS-POST:4837]ইরান মার্কিন ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে লারাক দ্বীপে হামলাকে আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, ওই হামলায় তাদের কয়েকজন সদস্য এবং বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয় তেহরান। এর মধ্যেই আইআরজিসি আলাদাভাবে দাবি করেছে, সোমবার হরমুজ প্রণালির ওপর একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, আঘাতের পর ড্রোনটি পারস্য উপসাগরের পানিতে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ যুদ্ধ চায় না, তবে আগ্রাসনের মুখেও নীরব থাকবে না। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে যোগ দিতে বিশকেক যাওয়ার আগে তিনি আরও হামলা হলে ‘দৃঢ় জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা কোনো দেশের স্বার্থেই নয় এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সবার ওপর পড়বে। লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর ইরান জর্ডানে মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করে এমন ঘাঁটিগুলোতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। এবার আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে ড্রোন পাঠানোর দাবি সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন করে উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে আল মিনহাদে হামলার ক্ষেত্রে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বক্তব্য সরাসরি পরস্পরবিরোধী হওয়ায় সেখানে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সূত্র: রয়টার্স