ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন, তিন বাহিনীর নেতৃত্বে সিডিএফ

পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন, তিন বাহিনীর নেতৃত্বে সিডিএফ
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন আইনের মাধ্যমে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ওপর ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ বা সিডিএফের কর্তৃত্ব আরও স্পষ্ট ও শক্তিশালী করা হয়েছে।

গত ২০ আগস্ট পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ‘ডিফেন্স ফোর্সেস অব পাকিস্তান অ্যাক্ট, ২০২৬’ এবং ‘ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি অ্যাক্ট, ২০১০’-এর সংশোধনী অনুমোদন করে। নতুন আইন দুটি গত বছরের ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া সিডিএফ পদের কার্যক্রম ও ক্ষমতার আইনি কাঠামো নির্ধারণ করেছে।

বর্তমানে এ পদে দায়িত্ব পালন করছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তিনি একই সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানও। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য প্রথম চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নতুন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের ‘চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি’ পদটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে গঠন করা হয়েছে ‘ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্স’, যার নেতৃত্বে থাকবেন সিডিএফ।

আগের ব্যবস্থায় জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান মূলত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতেন। নৌ বা বিমান বাহিনীর ওপর তাঁর সরাসরি অপারেশনাল কর্তৃত্ব ছিল না।

নতুন আইনে সেই কাঠামো বদলে গেছে। এখন সিডিএফ তিন বাহিনীর সামরিক অভিযানের ওপর অপারেশনাল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পেয়েছেন। অর্থাৎ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌ ও বিমান বাহিনীর সামরিক কার্যক্রমেও কেন্দ্রীয় কমান্ড হিসেবে কাজ করবেন তিনি।

পারমাণবিক সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট কমান্ড কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন আইনে ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডার পদে শুধু সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ নিয়োগ হবে সিডিএফের সুপারিশের ভিত্তিতে।

তবে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের আনুষ্ঠানিক সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ এখনো প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটির অধীনেই রয়েছে। নতুন কাঠামোয় সিডিএফ পারমাণবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

সামরিক কর্মকর্তাদের চাকরি, অবসর ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সিডিএফের ক্ষমতা বেড়েছে। আগের ব্যবস্থায় কোনো কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বা অবসরে পাঠাতে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন হতো। নতুন আইনে এসব ক্ষেত্রে সিডিএফকে আরও সরাসরি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

পরিবর্তনগুলো নিয়ে পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে তিন বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আরও বেশি সেনাবাহিনীকেন্দ্রিক হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে নৌ ও বিমান বাহিনীর স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

অন্যদিকে নতুন ব্যবস্থার সমর্থকেরা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তিন বাহিনীর মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমন্বিত কমান্ড নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কাঠামো প্রয়োজন।

১৯৭৬ সালে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি চালু হওয়ার পর পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের সামরিক নেতৃত্বে এটিকে অন্যতম বড় পুনর্গঠন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সংঘাতের পর দেশটির সামরিক কমান্ড আরও সমন্বিত করার আলোচনা জোরালো হয়েছিল।

সূত্র : আল জাজিরা

ট্যাগ : পাকিস্তান পাকিস্তান সেনাবাহিনী

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন, তিন বাহিনীর নেতৃত্বে সিডিএফ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন আইনের মাধ্যমে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ওপর ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ বা সিডিএফের কর্তৃত্ব আরও স্পষ্ট ও শক্তিশালী করা হয়েছে।

গত ২০ আগস্ট পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ‘ডিফেন্স ফোর্সেস অব পাকিস্তান অ্যাক্ট, ২০২৬’ এবং ‘ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি অ্যাক্ট, ২০১০’-এর সংশোধনী অনুমোদন করে। নতুন আইন দুটি গত বছরের ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া সিডিএফ পদের কার্যক্রম ও ক্ষমতার আইনি কাঠামো নির্ধারণ করেছে।

বর্তমানে এ পদে দায়িত্ব পালন করছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তিনি একই সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানও। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য প্রথম চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নতুন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের ‘চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি’ পদটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে গঠন করা হয়েছে ‘ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্স’, যার নেতৃত্বে থাকবেন সিডিএফ।

আগের ব্যবস্থায় জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান মূলত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করতেন। নৌ বা বিমান বাহিনীর ওপর তাঁর সরাসরি অপারেশনাল কর্তৃত্ব ছিল না।

নতুন আইনে সেই কাঠামো বদলে গেছে। এখন সিডিএফ তিন বাহিনীর সামরিক অভিযানের ওপর অপারেশনাল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পেয়েছেন। অর্থাৎ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌ ও বিমান বাহিনীর সামরিক কার্যক্রমেও কেন্দ্রীয় কমান্ড হিসেবে কাজ করবেন তিনি।

পারমাণবিক সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট কমান্ড কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন আইনে ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডার পদে শুধু সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ নিয়োগ হবে সিডিএফের সুপারিশের ভিত্তিতে।

তবে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের আনুষ্ঠানিক সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ এখনো প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটির অধীনেই রয়েছে। নতুন কাঠামোয় সিডিএফ পারমাণবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

সামরিক কর্মকর্তাদের চাকরি, অবসর ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সিডিএফের ক্ষমতা বেড়েছে। আগের ব্যবস্থায় কোনো কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বা অবসরে পাঠাতে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন হতো। নতুন আইনে এসব ক্ষেত্রে সিডিএফকে আরও সরাসরি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

পরিবর্তনগুলো নিয়ে পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে তিন বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আরও বেশি সেনাবাহিনীকেন্দ্রিক হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে নৌ ও বিমান বাহিনীর স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

অন্যদিকে নতুন ব্যবস্থার সমর্থকেরা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে তিন বাহিনীর মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমন্বিত কমান্ড নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কাঠামো প্রয়োজন।

১৯৭৬ সালে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি চালু হওয়ার পর পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের সামরিক নেতৃত্বে এটিকে অন্যতম বড় পুনর্গঠন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সংঘাতের পর দেশটির সামরিক কমান্ড আরও সমন্বিত করার আলোচনা জোরালো হয়েছিল।

সূত্র : আল জাজিরা


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ