ঝিনাইদহের শৈলকুপায় স্থানীয় আধিপত্য ও দলীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় দুই পক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের দলিলপুর গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এক পক্ষ বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামিরুল ইসলামের সমর্থক এবং অপর পক্ষ জেলা বিএনপির সহসভাপতি রাকিবুল হাসান দীপুর অনুসারী।
কয়েক দিন ধরে গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শনিবার সকালে দীপু পক্ষের এক সমর্থক মাঠে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এ সময় দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল ব্যবহার করা হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে দুই পক্ষের বাড়িঘরেও হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের হিসাবে ২৫ থেকে ৩০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে শৈলকুপা থানা পুলিশ এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামিরুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।
শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর মোল্লা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং মামলার প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।