ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কাছে একটি ইরানি তেল ট্যাংকার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম। তাদের দাবি, হামলাটি চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) তাসনিমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে তাসনিম জানিয়েছে, তেলবাহী জাহাজটিতে অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হামলার পর জাহাজের ক্রুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।
ঘটনার বিষয়ে রয়টার্স মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষও হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
খার্গ দ্বীপ পারস্য উপসাগরে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির বড় অংশ এই দ্বীপের টার্মিনাল ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে খার্গ দ্বীপও আলোচনায় এসেছে। গত ৩১ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের একটি এআই-তৈরি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় বাস্তবে দ্বীপটিতে কোনো হামলা হয়নি বলে জানিয়েছিল রয়টার্স।
এর কয়েক দিন পরই খার্গ দ্বীপসংলগ্ন এলাকায় ট্যাংকারে হামলার নতুন দাবি সামনে এলো। ঘটনাটি নিশ্চিত হলে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে ইরানের তেল রপ্তানি অবকাঠামোর কাছাকাছি এটি নতুন ধরনের সামরিক উত্তেজনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে হামলার দায়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ট্যাংকারটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো সীমিত।
সূত্র: রয়টার্স