ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে নতুন একটি নিষেধাজ্ঞা বিল উত্থাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল সিনেটর। প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়ার জ্বালানি তেলের প্রধান ক্রেতা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শাস্তিমূলক আমদানি শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।
দ্বিদলীয় সমর্থন পাওয়া বিলটির প্রধান লক্ষ্য রাশিয়ার তেল ও গ্যাস বিক্রির আয় কমিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধ পরিচালনায় মস্কোর অর্থায়নের পথ সংকুচিত করা। বিলটি কার্যকর হলে চীন ও ভারতের মতো রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারে।
বিলটির আগের সংস্করণে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব ছিল। তবে হোয়াইট হাউস ও আইনপ্রণেতাদের আলোচনার পর সংশোধিত খসড়ায় শুল্কের সর্বোচ্চ হার ১০০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
সম্প্রতি মারা যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বিলটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতারা বিলটি এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করেছেন। সংশ্লিষ্টরা এটিকে গ্রাহামের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের অংশ হিসেবেও দেখছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিলটির প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে আইনটিতে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় কোনো দেশকে সাময়িকভাবে শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
বিলের সংশোধিত ধারায় কিছু মিত্রদেশকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো দেশ রাশিয়ার মোট গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম আমদানি করলে এবং রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নিলে দেশটি শাস্তিমূলক শুল্ক থেকে রেহাই পেতে পারে।
এই ধারার কারণে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও জাপানের মতো দেশগুলো ছাড় পেতে পারে। হাঙ্গেরিও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে অব্যাহতির সুযোগ পেতে পারে। ফলে কোন দেশ শেষ পর্যন্ত শুল্কের আওতায় পড়বে, তা নির্ভর করবে দেশটির আমদানি ও রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পদক্ষেপের ওপর।
তবে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা চীন ও ভারত বিলটির বড় লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর তুলনামূলক কম দামে বিপুল পরিমাণ রুশ তেল কিনেছে দেশ দুটি। ফলে তাদের পণ্যে শতভাগ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেছেন, যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাশিয়ার রাজস্বের উৎস বন্ধ করতে বিলটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা বিলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, কংগ্রেসের পর্যাপ্ত তদারকি ছাড়াই এই ক্ষমতা মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের দামও বেড়ে যেতে পারে।
শুল্ক আরোপের পাশাপাশি প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি প্রকল্প ও প্রতিরক্ষা খাতের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে রুশ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের জাহাজ, মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
বিলটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পরই এটি কার্যকর হবে। তবে দ্বিদলীয় সমর্থন ও ট্রাম্পের ইতিবাচক অবস্থানের কারণে বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ