ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হুতিবিরোধী অভিযানে ট্রাম্পের সমর্থন চান সৌদি যুবরাজ

হুতিবিরোধী অভিযানে ট্রাম্পের সমর্থন চান সৌদি যুবরাজ
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মোহাম্মদ বিন সালমান । ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন চেয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার দাবি, ট্রাম্প ওই অভিযানে সমর্থনও দিয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হুতিদের সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় সামরিক পদক্ষেপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন নিশ্চিত করতে চেয়েছিল রিয়াদ। তবে বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউস বা সৌদি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

সোমবার সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা এবং এর জবাবে সৌদি আরবের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর এটিই সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সীমান্ত-অতিক্রমী সংঘাত।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, গত সপ্তাহে সৌদি আরব ওয়াশিংটনকে জানায় যে হুতিদের সাম্প্রতিক তৎপরতা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনও চায় দেশটি।

এরপর ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরবর্তী সময়ে রুবিও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।

শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ফোনালাপ হয়। এক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, ওই আলাপেই হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পের সমর্থন চান সৌদি যুবরাজ এবং ট্রাম্প তাতে সম্মতি দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাসও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত হয় ইরানের মাহান এয়ারের একটি উড়োজাহাজকে কেন্দ্র করে। উড়োজাহাজটিতে হুতি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ছিলেন, যারা ইরান থেকে সানায় ফিরছিলেন।

সৌদি আরবের আশঙ্কা ছিল, ইরান থেকে সরাসরি পরিচালিত এসব ফ্লাইটের মাধ্যমে হুতিদের কাছে অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ অথবা সামরিক উপদেষ্টা পাঠানো হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারাও মাহান এয়ারের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তুলেছেন।

হুতিদের অভিযোগ, সৌদি যুদ্ধবিমান প্রথমে ইরানি উড়োজাহাজটিকে সানায় অবতরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে একই ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলার হুঁশিয়ারি দেয় গোষ্ঠীটি।

সোমবার উড়োজাহাজটি আবার সানার দিকে অগ্রসর হলে বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ইরানি বিমানটির অবতরণ ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরে বিমানটি গতিপথ পরিবর্তন করে হুতি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, উড়োজাহাজটিতে হুতিদের জন্য অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও সামরিক বিশেষজ্ঞ বহন করা হচ্ছিল। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

সানা বিমানবন্দরে হামলার জবাবে হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আভা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হামলাগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করতে বিভিন্ন বিমান সংস্থাকে সতর্ক করেছে হুতিরা।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাত আবার শুরু হলে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেতে পারে। এতে ইয়েমেনের মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনাও নতুন মাত্রা পেতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : ডোনাল্ড ট্রাম্প রয়টার্স মোহাম্মদ বিন সালমান

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


হুতিবিরোধী অভিযানে ট্রাম্পের সমর্থন চান সৌদি যুবরাজ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন চেয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার দাবি, ট্রাম্প ওই অভিযানে সমর্থনও দিয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হুতিদের সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় সামরিক পদক্ষেপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন নিশ্চিত করতে চেয়েছিল রিয়াদ। তবে বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউস বা সৌদি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

সোমবার সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা এবং এর জবাবে সৌদি আরবের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর এটিই সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সীমান্ত-অতিক্রমী সংঘাত।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, গত সপ্তাহে সৌদি আরব ওয়াশিংটনকে জানায় যে হুতিদের সাম্প্রতিক তৎপরতা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনও চায় দেশটি।

এরপর ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরবর্তী সময়ে রুবিও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।

শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ফোনালাপ হয়। এক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, ওই আলাপেই হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পের সমর্থন চান সৌদি যুবরাজ এবং ট্রাম্প তাতে সম্মতি দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। ওয়াশিংটনে সৌদি দূতাবাসও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

নতুন উত্তেজনার সূত্রপাত হয় ইরানের মাহান এয়ারের একটি উড়োজাহাজকে কেন্দ্র করে। উড়োজাহাজটিতে হুতি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ছিলেন, যারা ইরান থেকে সানায় ফিরছিলেন।

সৌদি আরবের আশঙ্কা ছিল, ইরান থেকে সরাসরি পরিচালিত এসব ফ্লাইটের মাধ্যমে হুতিদের কাছে অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ অথবা সামরিক উপদেষ্টা পাঠানো হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারাও মাহান এয়ারের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তুলেছেন।

হুতিদের অভিযোগ, সৌদি যুদ্ধবিমান প্রথমে ইরানি উড়োজাহাজটিকে সানায় অবতরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে একই ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে সৌদি বিমানবন্দরগুলোতে হামলার হুঁশিয়ারি দেয় গোষ্ঠীটি।

সোমবার উড়োজাহাজটি আবার সানার দিকে অগ্রসর হলে বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ইরানি বিমানটির অবতরণ ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরে বিমানটি গতিপথ পরিবর্তন করে হুতি নিয়ন্ত্রিত হোদেইদাহ বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, উড়োজাহাজটিতে হুতিদের জন্য অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও সামরিক বিশেষজ্ঞ বহন করা হচ্ছিল। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

সানা বিমানবন্দরে হামলার জবাবে হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আভা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হামলাগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করতে বিভিন্ন বিমান সংস্থাকে সতর্ক করেছে হুতিরা।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাত আবার শুরু হলে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেতে পারে। এতে ইয়েমেনের মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনাও নতুন মাত্রা পেতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ