হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের মধ্যে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের দাবি, সোমবার পরিচালিত অভিযানে কুয়েতের দুটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং একটি কৌশলগত রাডার ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে ইরানের দাবি করা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত বা অন্য কোনো স্বাধীন সূত্র তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও জানিয়েছে, হামলার ঘটনা ঘটলেও নির্দিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর সমন্বিত এই অভিযান চালানো হয়। সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘চোখের বদলে চোখ’।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানটি তিন ধাপে পরিচালিত হয়। প্রথম ধাপে জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। তবে জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তাদের দাবি, সেখানে হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণকেন্দ্র, একটি বিমান হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন পরিচালনা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তৃতীয় ধাপে কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে জ্বালানি ট্যাংক ও প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটির একটি রাডার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বক্তব্যে এসব স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংসের কথা বলা হলেও এর পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
ইরান সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযানও চলবে।
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের উপকূলীয় সামরিক স্থাপনায় নতুন দফা হামলা চালানোর কথা জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যুদ্ধবিমান, নৌযান ও ড্রোন ব্যবহার করে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামুদ্রিক সক্ষমতা লক্ষ্য করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার সক্ষমতা কমাতেই এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অধিকার নিজেদের রয়েছে বলে দাবি করছে।
পাল্টাপাল্টি হামলায় কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ