জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি নিয়ে বিরোধী দলের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো সুযোগ বা সরকারি উদ্যোগ নেই।
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপন করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, সরকারি দলের এক সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য দুটি সংসদীয় আসনকে নিজের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পরে ওই এলাকাগুলোতে এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের পরিবর্তে সংরক্ষিত আসনের সদস্যই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যে এ বিষয়ে অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী দলের বিজয়ী আসনগুলোতে এমন দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ কারণে তিনি সরকারের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরাসরি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতায় না পড়লেও বিভ্রান্তি এড়াতে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ আসনের সংসদ সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা ও সীমানা রয়েছে। তবে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা নির্ধারিত নেই।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের দায়িত্বের পরিধি পুরো বাংলাদেশ। তারা কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি নন। ফলে কোনো সদস্য নিজেকে একটি নির্দিষ্ট আসন বা এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে উপস্থাপন করলে সেটির সাংবিধানিক ভিত্তি থাকবে না।
তিনি আরও জানান, আইন ও বিধি অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া বরাদ্দ দেশের যেকোনো এলাকায় উপ-বরাদ্দ দিতে পারেন। একইভাবে দেশের যেকোনো স্থানে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্বও পালন করতে পারেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের কোনো সদস্যকে নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার যে ব্যাখ্যা প্রচার করা হচ্ছে, তার সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।
মন্তব্যসমূহ