পেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবল রেফারি। এবার বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন এল সালভাদরের ইভান আর্কিডেস বার্তন সিসনেরোস।
ডালাসে ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যকার প্রথম সেমিফাইনালে প্রধান রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ৩৫ বছর বয়সী বার্তন। ম্যাচের আগের দিন ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে রেফারিদের তালিকা প্রকাশ করেছে।
ছেলেদের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া প্রথম এল সালভাদরিয়ান রেফারি তিনি। তাঁর সহকারী হিসেবে থাকবেন স্বদেশি দাভিদ মোরান ও আন্তোনিও পুপিরো।
চতুর্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সুইডেনের গ্লেন নিবার্গ। রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে থাকবেন একই দেশের মাহবোদ বেইগি।
১৯৯১ সালের ২৭ জানুয়ারি এল সালভাদরের সান্তা আনা শহরে জন্মগ্রহণ করেন বার্তন। এল সালভাদর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব রসায়ন বিভাগে শিক্ষকতা করেন তিনি।
পড়াশোনা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি ফুটবলের প্রতিও তাঁর আগ্রহ ছিল। ঘরোয়া ফুটবলে দীর্ঘদিন ম্যাচ পরিচালনার পর ২০১৮ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় জায়গা পান বার্তন।
এরপর কনকাকাফ গোল্ড কাপ, কনকাকাফ নেশন্স লিগ, অলিম্পিক ফুটবল, কোপা আমেরিকা এবং কাতার বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন বড় প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
কাতার বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন বার্তন। এর মধ্যে ইংল্যান্ড ও সেনেগালের শেষ ষোলোর ম্যাচে তাঁর পরিচালনা প্রশংসিত হয়। সেই অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই এবার সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের প্যারাগুয়ে-তুরস্ক ম্যাচ পরিচালনা করে আলোচনায় আসেন বার্তন। ওই ম্যাচে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন মুখ ঢেকে তুরস্কের মের্ত মুলদুরকে কিছু বলেন।
মুলদুর বিষয়টি রেফারির নজরে আনলে ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় ঘটনা পর্যালোচনা করেন বার্তন। পরে আলমিরনকে লাল কার্ড দেখানো হয়। মুখ ঢেকে বলা কথার ঘটনায় বিশ্বকাপে লাল কার্ড দেখানোর বিরল নজির ছিল সেটি।
ফ্রান্স ও স্পেনের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিনে ইয়ামালসহ একাধিক তারকা থাকায় ম্যাচটি পরিচালনায় কঠোর নজর থাকবে বার্তনের। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে তাঁর সিদ্ধান্তও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্যসমূহ