রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজি-বাইকের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় শিগগিরই সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নির্দেশনা জারি করবে সরকার।
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে আধুনিক বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজি-বাইকের নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধন এবং সড়কে চলাচলের পদ্ধতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
তিনি জানান, ঢাকা মহানগরের ভেতরে এসব যান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব মূলত সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগের। এ ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ সীমিত হলেও যানজট কমানো এবং পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
এর আগে সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার দেশের পরিবহন খাতকে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থায় রূপান্তরের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, পরিবহন খাত থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।
তিনি ডিজেলচালিত বাস ও ট্রাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎচালিত যান, সিএনজি, এলএনজি, সৌরবিদ্যুৎ ও সবুজ হাইড্রোজেনের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
সম্পূরক প্রশ্নে তিনি বলেন, ঢাকার সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তবে কম খরচে যাতায়াত এবং চালকদের শারীরিক পরিশ্রম কম হওয়ায় এসব যান যাত্রী ও চালক উভয়ের কাছেই জনপ্রিয়।
তিনি এসব যান পুরোপুরি বন্ধ না করে মানোন্নয়ন, নিবন্ধন এবং নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চান।
জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, সরকার ব্যাটারিচালিত যান বন্ধের পরিবর্তে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার উপায় খুঁজছে। খুব শিগগিরই ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় এসব যান নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত নির্দেশনা দেওয়া হবে।
নতুন নীতিমালার ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্যসমূহ