ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্যাডেল রিকশা বন্ধ ও ব্যাটারিচালিত রিকশার নীতিমালার দাবিতে আইনি নোটিশ

দেশে প্যাডেল রিকশা বন্ধ, নিরাপদ ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন ও এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন এবং জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় প্রাইভেট কারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান।নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়েছে।নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের মোট জনসংখ্যার খুব অল্পসংখ্যক মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করলেও এসব গাড়ি সড়কের বড় অংশ দখল করে রাখে। পাশাপাশি আমদানিকৃত জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহার দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।[BANGVIEWS-POST:4940]এতে আরও বলা হয়, ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে নির্গত ক্ষতিকর ধোঁয়া বায়ুদূষণ বাড়াচ্ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য গণপরিবহন ও রিকশার ওপর নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে অনেক মানুষ প্যাডেল রিকশা চালানোর মতো কঠোর শারীরিক শ্রমের পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন।আইনজীবীর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে প্যাডেল রিকশা চালানোর কারণে চালকদের শারীরিক নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্যাডেল রিকশার পরিবর্তে নিরাপদ ও আধুনিক বিকল্প ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।নোটিশে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে স্থানীয় পরিবহনের আধুনিক রূপ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তবে এর জন্য গতি নিয়ন্ত্রণ, ব্রেকিং ব্যবস্থা, ব্যাটারির মান, যানবাহনের কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং চার্জিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।[BANGVIEWS-POST:4939]এতে আরও বলা হয়, ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপর নির্ভরশীল বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা বিবেচনায় নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ ধরনের যান বন্ধ করলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও শ্রমজীবী মানুষের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।নোটিশে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতি রক্ষায় প্রাইভেট কারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং উচ্চহারে পরিবেশ কর চালুর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং, রেন্ট-এ-কার ও মিটারভিত্তিক পরিবহন সেবাকে উৎসাহিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নোটিশে বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তাই পরিবহন খাতে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ প্রয়োজন।নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্যাডেল রিকশা বন্ধ, নিরাপদ ব্যাটারিচালিত রিকশার নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্যাডেল রিকশা বন্ধ ও ব্যাটারিচালিত রিকশার নীতিমালার দাবিতে আইনি নোটিশ