মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। বিপরীতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের দাম টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬১ দশমিক ৬৪ মার্কিন ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্যও কমেছে।
সাধারণত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সময় স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। তবে এবারের পরিস্থিতিতে তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু রাখতে পারে, এমন ধারণা শক্তিশালী হয়েছে।
স্বর্ণ থেকে নিয়মিত সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার ও বন্ডের মুনাফা বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ ধরে রাখার আকর্ষণ কমে যায়। একই সঙ্গে শক্তিশালী মার্কিন ডলারও স্বর্ণের বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।
মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
স্যাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত মূল্যস্ফীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর মুদ্রানীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। উচ্চ বন্ড মুনাফা ও শক্তিশালী ডলার স্বর্ণের দামের জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
তিনি আরও জানান, গ্রীষ্মকালীন সময়ে বাজারে লেনদেন তুলনামূলক কম থাকায় স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ ডলারের সাম্প্রতিক সীমার বাইরে চলে যেতে পারে।
বাজারের হিসাবে, আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে, এমন সম্ভাবনা ৬৯ শতাংশে উঠেছে। আগের সপ্তাহে এই সম্ভাবনা ছিল ৬৩ শতাংশ।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৪১৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।
মন্তব্যসমূহ