ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এক চালকের মৃত্যুতে ফের রাজপথে নেপালের জেন-জি

এক চালকের মৃত্যুতে ফের রাজপথে নেপালের জেন-জি
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে পৌর পুলিশের সঙ্গে বিরোধের পর এক রাইড-শেয়ারিং চালকের আত্মাহুতি ও মৃত্যুর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সরকারের বিরুদ্ধে জনমনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ঘটনার বিচার ও প্রশাসনের জবাবদিহির দাবিতে তরুণদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

নিহত ২৫ বছর বয়সী ওই চালকের নাম গণেশ নেপালি। তিনি নেপালের মুগু জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং কাঠমান্ডুতে রাইড-শেয়ারিং সেবা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুর ত্রিপুরেশ্বর এলাকায় পাসপোর্ট বিভাগের কার্যালয়ের সামনে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন গণেশ। এ সময় কাঠমান্ডু মহানগর পুলিশের সদস্যরা তার মোটরসাইকেলের চাকায় তালা লাগিয়ে জরিমানা করেন।

এ নিয়ে পৌর পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে গণেশ নিজের শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে কাঠমান্ডুর বীর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর গণেশের স্বজন ও সমর্থকেরা কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভ করেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। পরে সরকার ও পরিবারের মধ্যে নয় দফা সমঝোতা হয়। এতে স্বাধীন তদন্ত, পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, গণেশের স্ত্রীকে কর্মসংস্থান এবং তার মেয়ের শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার গণেশের পরিবার পৌর পুলিশের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেলে চাকার তালা লাগানো ও পরবর্তী আচরণের কারণেই ঘটনাটি ভয়াবহ পরিণতির দিকে গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি আইনি প্রক্রিয়ায় নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এই মৃত্যুর পর কাঠমান্ডু মহানগর পুলিশের ক্ষমতা, আচরণ ও আইনগত এখতিয়ার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পৌর পুলিশের দায়িত্ব মূলত নগর ব্যবস্থাপনায় সহায়তা, পৌর সম্পদ রক্ষা এবং স্থানীয় বিধিবিধান বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

তাদের বলপ্রয়োগ, নাগরিকদের আটক বা স্বাধীনভাবে জনতা নিয়ন্ত্রণ করার স্পষ্ট আইনি ক্ষমতা নেই। জননিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হলে মহানগর কর্তৃপক্ষের নেপাল পুলিশের সহায়তা নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন আইন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

বালেন্দ্র শাহ ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ফুটপাতের হকার, ভাসমান দোকান এবং নদীতীরের ভূমিহীন বসতি উচ্ছেদে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় আসেন। এসব অভিযানে দরিদ্র মানুষের প্রতি অতিরিক্ত কঠোরতা ও মানবিক বিবেচনার অভাবের অভিযোগ উঠেছিল।

২০২৬ সালের মার্চে জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বালেন্দ্র শাহ নেপালের প্রধানমন্ত্রী হন। তবে ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই ভূমিহীনদের উচ্ছেদ, প্রশাসনিক কঠোরতা এবং ভিন্নমত দমনের অভিযোগে তার সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে।

গণেশ নেপালির মৃত্যুকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের মতে, ঘটনাটি নেপালের নিম্ন আয়ের মানুষ, রাইড-শেয়ারিং চালক এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অনিরাপদ জীবন ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের বৈষম্যমূলক সম্পর্কের চিত্র সামনে এনেছে।

বিক্ষোভকারীরা দরিদ্রদের ওপর প্রশাসনিক নির্যাতন বন্ধ, অবৈধ আটক ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ তদন্ত এবং উচ্ছেদের শিকার ভূমিহীন পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। গণেশের মৃত্যুর পর এসব দাবিকে কেন্দ্র করে বালেন সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের ক্ষোভ আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

ট্যাগ : নেপাল দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট বালেন্দ্র শাহ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


এক চালকের মৃত্যুতে ফের রাজপথে নেপালের জেন-জি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে পৌর পুলিশের সঙ্গে বিরোধের পর এক রাইড-শেয়ারিং চালকের আত্মাহুতি ও মৃত্যুর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সরকারের বিরুদ্ধে জনমনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ঘটনার বিচার ও প্রশাসনের জবাবদিহির দাবিতে তরুণদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

নিহত ২৫ বছর বয়সী ওই চালকের নাম গণেশ নেপালি। তিনি নেপালের মুগু জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং কাঠমান্ডুতে রাইড-শেয়ারিং সেবা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুর ত্রিপুরেশ্বর এলাকায় পাসপোর্ট বিভাগের কার্যালয়ের সামনে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন গণেশ। এ সময় কাঠমান্ডু মহানগর পুলিশের সদস্যরা তার মোটরসাইকেলের চাকায় তালা লাগিয়ে জরিমানা করেন।

এ নিয়ে পৌর পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে গণেশ নিজের শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে কাঠমান্ডুর বীর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর গণেশের স্বজন ও সমর্থকেরা কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভ করেন। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। পরে সরকার ও পরিবারের মধ্যে নয় দফা সমঝোতা হয়। এতে স্বাধীন তদন্ত, পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, গণেশের স্ত্রীকে কর্মসংস্থান এবং তার মেয়ের শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার গণেশের পরিবার পৌর পুলিশের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেলে চাকার তালা লাগানো ও পরবর্তী আচরণের কারণেই ঘটনাটি ভয়াবহ পরিণতির দিকে গিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি আইনি প্রক্রিয়ায় নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এই মৃত্যুর পর কাঠমান্ডু মহানগর পুলিশের ক্ষমতা, আচরণ ও আইনগত এখতিয়ার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পৌর পুলিশের দায়িত্ব মূলত নগর ব্যবস্থাপনায় সহায়তা, পৌর সম্পদ রক্ষা এবং স্থানীয় বিধিবিধান বাস্তবায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

তাদের বলপ্রয়োগ, নাগরিকদের আটক বা স্বাধীনভাবে জনতা নিয়ন্ত্রণ করার স্পষ্ট আইনি ক্ষমতা নেই। জননিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হলে মহানগর কর্তৃপক্ষের নেপাল পুলিশের সহায়তা নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন আইন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

বালেন্দ্র শাহ ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ফুটপাতের হকার, ভাসমান দোকান এবং নদীতীরের ভূমিহীন বসতি উচ্ছেদে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় আসেন। এসব অভিযানে দরিদ্র মানুষের প্রতি অতিরিক্ত কঠোরতা ও মানবিক বিবেচনার অভাবের অভিযোগ উঠেছিল।

২০২৬ সালের মার্চে জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বালেন্দ্র শাহ নেপালের প্রধানমন্ত্রী হন। তবে ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই ভূমিহীনদের উচ্ছেদ, প্রশাসনিক কঠোরতা এবং ভিন্নমত দমনের অভিযোগে তার সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে।

গণেশ নেপালির মৃত্যুকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের মতে, ঘটনাটি নেপালের নিম্ন আয়ের মানুষ, রাইড-শেয়ারিং চালক এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের অনিরাপদ জীবন ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের বৈষম্যমূলক সম্পর্কের চিত্র সামনে এনেছে।

বিক্ষোভকারীরা দরিদ্রদের ওপর প্রশাসনিক নির্যাতন বন্ধ, অবৈধ আটক ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ তদন্ত এবং উচ্ছেদের শিকার ভূমিহীন পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। গণেশের মৃত্যুর পর এসব দাবিকে কেন্দ্র করে বালেন সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের ক্ষোভ আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ