ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে বিশ্বের নানা প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীদের মিলনমেলায় উৎসবের আবহ তৈরি হলেও, এর আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের নানা সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের অংশগ্রহণ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। স্কটল্যান্ডের সমর্থকদের উৎসব, জাপানি দর্শকদের স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার সংস্কৃতি এবং বিদেশি পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কয়েকটি সিদ্ধান্ত সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমালিয়ার এক রেফারিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া, ইরানি ফুটবলারদের ম্যাচ শেষে দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ এবং একটি লাল কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা এবং আয়োজক দেশের নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের আতিথেয়তা ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজের ইতিবাচক চিত্র একদিকে থাকলেও, সরকারি নীতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থায় পরিবর্তন এসেছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক দেশ এখন বিকল্প পথ খুঁজছে।
বিভিন্ন জরিপেও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যেই রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা কমছে। বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ মনে করেন, ‘আমেরিকান ড্রিম’ আগের মতো বাস্তব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক মেরুকরণ, নির্বাহী ক্ষমতার বিস্তার এবং নির্বাচনি ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে চাপের মুখে ফেলেছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশটির বৈশ্বিক নেতৃত্বের ওপরও।
তাদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনেও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত বাস্তবতা সামনে এসেছে। একদিকে রয়েছে বহুত্ববাদে বিশ্বাসী সাধারণ জনগণ, অন্যদিকে রয়েছে বিতর্কিত সরকারি নীতি। ফলে মাঠের ফুটবল যতই আলো ছড়াক, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক আস্থার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।
সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট
মন্তব্যসমূহ