ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক কার্যত ‘শেষ’ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা চাইলে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করছে না ওয়াশিংটন। রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার (৮ জুলাই) আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের আগে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা করা তাঁর কাছে ‘সময় নষ্ট’ মনে হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব হামলার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর জবাবে বন্দর আব্বাস, সিরিক ও কেশম দ্বীপসহ ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ইরানি তেল রপ্তানির ওপর দেওয়া সাময়িক ছাড়ও বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সমঝোতার আওতায় ইরানের তেল বিক্রির যে ছাড় ছিল, তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সমঝোতার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সমঝোতা লঙ্ঘন ও প্রকাশ্য আগ্রাসন হিসেবে দেখছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন হামলার পর ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো বিদেশি চাপ বা হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। দেশটির সামরিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এদিকে স্কাই নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বহু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং ইরান পাল্টা হিসেবে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দাবি করেছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে তেল সরবরাহ, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ