ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বারুইপুর শহরতলিতে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার মামলার প্রধান সন্দেহভাজন প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
পুলিশের দাবি, মঙ্গলবার রাতে অপরাধের দৃশ্য পুনর্নির্মাণের জন্য তাকে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছিল। এ সময় তিনি এক পুলিশ কর্মকর্তার আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে প্রভাস মণ্ডলসহ আনন্দ সরদার ও দিবাকর সরদার নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে বসিরহাট এলাকা থেকে কবির মোল্লা নামে আরও একজনকে আটক করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ছিল। তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, ঘটনার দিন শিশুটিকে ফুসলিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল প্রভাস মণ্ডলকে। সেখানে অন্য অভিযুক্তরা আগে থেকেই অবস্থান করছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ সংঘটিত করার পর শিশুটিকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ময়নাতদন্তে শিশুটির ফুসফুসে পানি পাওয়ার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত রবিবার শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর বারুইপুর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ, ভাঙচুর এবং রেললাইন অবরোধ করে। পুলিশের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ঘটনায় সহিংসতা ও সন্দেহের বশে এক নিরপরাধ যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রায় ২০০ জনকে চিহ্নিত করার কথা জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালককে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ দমনে জেলার প্রতিটি থানাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ঘটনাটি রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে। বিরোধী পক্ষ অভিযোগ করেছে, পুলিশ শুরুতে মূল অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিল।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্যসমূহ