ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দৃশ্যমান বিচার চান জুলাই শহীদদের স্বজনরা

দৃশ্যমান বিচার চান জুলাই শহীদদের স্বজনরা
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনরা বলেছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত না হলে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার প্রকৃত অবসান সম্ভব নয়। তারা অভিযোগ করেন, বিচার দাবিতে আন্দোলন চললেও এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি।

একই সঙ্গে পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার দাবিও জানান তারা।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ এসব দাবি তুলে ধরেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের স্বজনরা নিজেদের বেদনা, ক্ষোভ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। স্বজন হারানোর স্মৃতি বলতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পুরো সম্মেলনস্থলে তৈরি হয় শোকাবহ পরিবেশ।

চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, তার ছেলে আর ফিরে আসবে না। তবে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বাবা-মাকে এমন শোক বয়ে বেড়াতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করা জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সহায়তার আহ্বান জানান।

শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার ভাই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন। তার আত্মত্যাগ আরও অনেককে আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করেছে। কেউ প্রাণ দিয়েছেন, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তিনি দ্রুত বিচার, শহীদ পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তা এবং সারাদেশে জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানান।

শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, বড় ছেলে নিহত হওয়ার পর ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। সে সময় বিভিন্ন জায়গায় সহায়তা চাইলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করেও তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। তার প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে সব শহীদ পরিবার একই ধরনের সহায়তা পাবে এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়। এটি জনগণের সম্মিলিত আত্মত্যাগের ফল।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করবে। আইন অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে বিচার প্রক্রিয়ায় যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, জাতিকে বিভক্ত রেখে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো অপশক্তি যেন দেশ পুনর্গঠনের পথ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ট্যাগ : আবু সাঈদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থান

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


দৃশ্যমান বিচার চান জুলাই শহীদদের স্বজনরা

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্বজনরা বলেছেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত না হলে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার প্রকৃত অবসান সম্ভব নয়। তারা অভিযোগ করেন, বিচার দাবিতে আন্দোলন চললেও এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি।

একই সঙ্গে পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার দাবিও জানান তারা।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ এসব দাবি তুলে ধরেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের স্বজনরা নিজেদের বেদনা, ক্ষোভ ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। স্বজন হারানোর স্মৃতি বলতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পুরো সম্মেলনস্থলে তৈরি হয় শোকাবহ পরিবেশ।

চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, তার ছেলে আর ফিরে আসবে না। তবে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বাবা-মাকে এমন শোক বয়ে বেড়াতে না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করা জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ সহায়তার আহ্বান জানান।

শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার ভাই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন। তার আত্মত্যাগ আরও অনেককে আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করেছে। কেউ প্রাণ দিয়েছেন, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তিনি দ্রুত বিচার, শহীদ পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তা এবং সারাদেশে জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানান।

শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, বড় ছেলে নিহত হওয়ার পর ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। সে সময় বিভিন্ন জায়গায় সহায়তা চাইলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশে অবস্থান করেও তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। তার প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে সব শহীদ পরিবার একই ধরনের সহায়তা পাবে এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়। এটি জনগণের সম্মিলিত আত্মত্যাগের ফল।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করবে। আইন অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে বিচার প্রক্রিয়ায় যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, জাতিকে বিভক্ত রেখে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো অপশক্তি যেন দেশ পুনর্গঠনের পথ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ