পিরোজপুরের নেছারাবাদে জমি সংক্রান্ত মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ায় মো. আনসার আলী (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে বিবস্ত্র করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি গত ২৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে আদালতের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে সংঘটিত হয়।
আহত আনসার আলীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। তিনি কাটাখালী গ্রামের বাসিন্দা।
জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে সাবেক সেনাসদস্য ওসমান গনি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মী মো. আবুল বাশারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ওসমান গনি আদালতে একটি মামলা দিয়েছেন, যেখানে আনসার আলী সাক্ষী হয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
আনসার আলী অভিযোগ করেছেন, ২৫ সেপ্টেম্বর আবুল বাশার তাকে সাক্ষ্য দেওয়া থেকে বিরত রাখতে ভয়ভীতি দেখিয়েছিলেন। তিনি আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার পর ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে কাটাখালী বাজারের কাছে আবুল বাশার ও তাঁর জামাতা আশিক তাকে বাড়তি মারধর করেন এবং একপর্যায়ে বিবস্ত্র করেও ফেলেন। সাক্ষীর স্বজনরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহত আনসার আলী বলেন, 'ওসমান গনি ও আবুল বাশারের মধ্যে জমি নিয়ে মামলা চলছে। মামলায় সাক্ষী হওয়ার কারণে আমাকে মারধর করা হয়েছে।'
মামলার বাদী ওসমান গনি অভিযোগ করেন, 'আমার ভাইয়ের কাছ থেকে আবুল বাশার গোপনে একটি জমির দলিল গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি দেখে আমি আদালতে মামলা করি এবং আনসার আলীকে সাক্ষী করি। বাশার সাক্ষ্য না দিতে বাধা দিয়েছিলেন এবং পরে তাকে মারধর করা হয়েছে।'
অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল বাশার বলেন, 'শুক্রবার বাজারে বসে থাকার সময় আনসার পেছন থেকে এসে আমাকে ধাক্কা দেন। এজন্য আমাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। আমি আওয়ামী লীগের সভাপতি নই, তবে দলকে সমর্থন করি।'
কাটাখালী ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী সাক্ষী দেওয়ায় তার পিটানোর ব্যাপারে শুনেছেন এবং আবুল বাশার ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কমিটির সভাপতি।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্যসমূহ