বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ১৬৯, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে। একই সময়ে ২০৪ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে ছিল পাকিস্তানের লাহোর। ১৭৩ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারতের কলকাতা।
তালিকায় এরপর ১৬৮ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি। ১৬৫ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে কুয়েতের কুয়েত সিটি।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অনেক ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোরকে ‘মাঝারি বা সহনীয়’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়।
এ ছাড়া ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি স্কোরকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশে বায়ুর মান নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাঁচ ধরনের দূষণকারী উপাদান বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো বস্তুকণা পিএম১০ ও পিএম২.৫, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)।
পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের ২০১৯ সালের মার্চের একটি প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান তিনটি উৎস হিসেবে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের ধুলাকে উল্লেখ করা হয়েছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের সঙ্গে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় বলে সংস্থাটির তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ