ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মানুষের নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাণীর প্রতিও সহিংসতা বন্ধে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবিক চেতনাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
এ সময় ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট ও লোগো উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে কিছু অপশক্তি মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করে। কিন্তু সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও মানবিকতা বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। সেই মূল্যবোধ ধারণ করেই সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায়, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারবেন।
তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার নতুন প্রজন্মের সামনে জ্ঞানের নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তবে একই সঙ্গে মূল্যবোধের সংকট তৈরির আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন সময়ে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের জন্য লেখা ছড়া ও কবিতা নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সাহসী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে পারে।
তিনি বলেন, নজরুলকে নিয়ে আলোচনা শুধু মন্ত্রণালয় বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তাঁর সাহিত্য, জীবনদর্শন ও মানবিক চেতনা সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। অতীতের মতো বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও জাতীয় কবি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
তারেক রহমান বলেন, নজরুলের জীবন ও কর্মের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সম্পর্ক আরও গভীর করতেই বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও শিল্পীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উদ্বোধনী আয়োজনটি আরও ভিন্নধর্মীভাবে করা গেলে ভালো হতো। জাতীয় কবির আদর্শ ও সৃষ্টিকে আরও বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
সচিবালয়ের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, কবি নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নজরুল গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ