দ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট)। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে, বর্তমান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এই অনন্য প্রতিভা।জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, নজরুল একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন কবির সমাধিতেও বিভিন্ন সংগঠন শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। [BANGVIEWS-POST:4566]১৮৯৯ সালের ২৫ মে, বাংলা ১৩০৬ সনের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠা নজরুল পরবর্তী সময়ে কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অসামান্য অবদান রাখেন। হামদ-নাত, গজল ও শ্যামাসংগীতেও তার সৃষ্টি বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছে।মাত্র ২৩ বছরের সক্রিয় সৃষ্টিশীল জীবনে নজরুলের লেখনীতে উঠে এসেছে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষা, সাম্য, প্রেম ও মানবতার কথা। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদী সাহিত্য তাকে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র অবস্থান দিয়েছে। [BANGVIEWS-POST:4567]বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয়। ঢাকার ধানমন্ডিতে তার বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধি দেয়। ১৯৭৬ সালে তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয় এবং একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। মৃত্যুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় জাতীয় কবিকে। সেখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তিনি।