বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে পর্যায়ক্রমে যুক্ত হচ্ছে প্রায় ২০০টি নতুন কোচ। এসব কোচ দিয়ে নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি পুরোনো ও জরাজীর্ণ কোচ প্রতিস্থাপন করা হবে। প্রাথমিকভাবে দেশে পৌঁছানো কোচের একটি অংশ ব্যবহার করে নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান।
মহাপরিচালক বলেন, শুরুতে নতুন কোচ দিয়ে একটি ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আরও কোচ দেশে এলে যাত্রী চাহিদা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে নতুন ট্রেন চালু করা হবে। একই সঙ্গে পুরোনো কোচগুলোও পর্যায়ক্রমে বদলে ফেলা হবে।
রেলওয়ের সেবার মান ও পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন স্টেশনের পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান আফজাল হোসেন। স্টেশনগুলোতে মালামাল ওঠানো-নামানোর সুবিধা এবং যাত্রীদের চাহিদা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেসব স্থানে যাত্রী ও পরিবহন চাহিদা বেশি, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী রেললাইন সম্প্রসারণ, লুপ লাইন বৃদ্ধি এবং ট্রেনের কোচের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালুর সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে আফজাল হোসেন জানান, বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। দেশের সব রেলপথ এখনও ব্রডগেজে রূপান্তরিত না হওয়ায় এ মুহূর্তে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, রেলপথগুলো ব্রডগেজে রূপান্তরের বিষয়টি বিবেচনার পাশাপাশি দীর্ঘ এই পথে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে।
অন্যদিকে, পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভারতের সঙ্গে সংযোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। মহাপরিচালকের মতে, আঞ্চলিক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হলে ভারতের অংশেও রেলপথ নির্মাণ করতে হবে। শুধু বাংলাদেশের অংশে রেললাইন তৈরি করলে কাঙ্ক্ষিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে না। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই দেশের সম্মতি প্রয়োজন।
পরিদর্শনকালে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার জাহিদ হাসানসহ রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ