ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামী ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমঝোতার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তাঁর দাবি, দলটির শীর্ষ নেতারা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করছেন।
শুক্রবার ঝিনাইদহ পুরাতন ডিসি কোর্ট মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন রাশেদ খান। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
রাশেদ খান বলেন, আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারতকে তোষণ করত। তাঁর অভিযোগ, জামায়াতও এখন একই কৌশল অনুসরণ করছে।
আগামী ৩১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চ কর্মসূচি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। রাশেদ খানের দাবি, খুলনা বিভাগের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই কর্মসূচি নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই এবং তাঁরা এটি প্রত্যাখ্যান করবেন।
খুলনা বিভাগকে অতীতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময় পরিবর্তন হয়েছে। এখন খুলনার মানুষ কোনো ধরনের রাজনৈতিক অপকৌশল মেনে নেবে না।
লংমার্চের কর্মসূচিতে গোপালগঞ্জে পথসভা না রাখার বিষয়টিও তুলে ধরেন রাশেদ খান। এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান ও সাহস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গোপালগঞ্জমুখী লংমার্চের কথা উল্লেখ করেন। ওই কর্মসূচিতে হামলার পর সেনাবাহিনী এনসিপির নেতাকর্মীদের উদ্ধার করেছিল বলে জানান তিনি। এরপরও জামায়াত কেন গোপালগঞ্জে যাচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান।
এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে জামায়াতের পরাজয় নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
বিমানবাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রাশেদ খান বলেন, ওই মৃত্যুর ঘটনায় আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট মহলে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে বলে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তিনি।
এ সময় ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ এবং জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ