ঢাকা    শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নভেম্বর থেকে হলুদ-মরিচের গুঁড়া ও চা বিক্রি করবে টিসিবি

নভেম্বর থেকে হলুদ-মরিচের গুঁড়া ও চা বিক্রি করবে টিসিবি
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাণিজ্যিক আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন পণ্য বিক্রির পরিসর বাড়াচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি আটা বিক্রির পরিকল্পনা এবং বাজারের চাহিদা যাচাই করে আরও কয়েকটি পণ্য যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানান, ভোক্তাদের সাশ্রয়ী দামে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সংস্থার নিজস্ব আয় বাড়াতেও পণ্যের বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রি শুরু করেছি। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। চা বিক্রিরও অনুমোদন পেয়েছি। আশা করছি, নভেম্বরেই এটি বাজারে আনতে পারব।’

টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, আটা বিক্রির বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে। এ ছাড়া বাজারের চাহিদা যাচাই করতে জরিপ চালানো হচ্ছে। জরিপের ফল ইতিবাচক হলে আরও নতুন পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বর্তমানে সংস্থাটি কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি করছে। এসব পণ্য প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় কম দামে বিক্রি করা হলেও সংগ্রহমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাচ্ছেন, পাশাপাশি টিসিবিও সামান্য মুনাফা করছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে সংস্থাটির মুনাফা হয়েছে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক আয় বাড়িয়ে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানোর মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে টিসিবি।

ফয়সল আজাদের ভাষ্য, পণ্যের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে সংস্থাটির আয় বাড়বে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে অতিরিক্ত আয় করা।’

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রসারিত পণ্যসম্ভারের মাধ্যমে এক কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারলে টিসিবির প্রায় ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় বা আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তবে এ পরিমাণ আয় নির্ভর করবে পণ্য বিক্রির পরিমাণ এবং পরিচালন কার্যক্রম কতটা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে, তার ওপর।

বর্তমানে নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে টিসিবি। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী অর্থবছরে গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার লক্ষ্য সংস্থাটির।

চেয়ারম্যান জানান, নতুন পণ্য বিক্রি শুরুর পর চার মাস পার হয়েছে। ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটামুটি ভালো সাড়া পাওয়া গেলেও গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়াতে চায় টিসিবি।

নতুন পণ্য যুক্ত হলেও বর্তমানে ভর্তুকির আওতায় বিক্রি হওয়া পণ্যগুলোর দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘সরকার ভর্তুকির আওতায় বর্তমানে যেসব পণ্য বিক্রি করছে, সেগুলোর দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। আগের দামেই এসব পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে।’

নতুন পণ্যগুলোও প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় কম দামে বিক্রি করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন ফয়সল আজাদ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, নতুন পণ্যগুলোর দামও প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম থাকবে।’

তবে নতুন পণ্য কেনা বা না কেনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ভোক্তাদের ওপর থাকবে। একসঙ্গে সব পণ্য যুক্ত না করে ধাপে ধাপে পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। এর উদ্দেশ্য, ক্রেতারা যেন টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্র থেকেই এক জায়গায় তাঁদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্য কিনতে পারেন।

স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বিতরণ কর্মসূচির বাইরেও ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির সম্ভাবনা যাচাই করছে টিসিবি। এর অংশ হিসেবে ভোজ্যতেল বিক্রির পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে পণ্য সরবরাহ ও বিক্রির জন্য সম্ভাব্য ডিলারদের কাছ থেকে আবেদনও চেয়েছে সংস্থাটি।

পণ্যের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি সংগ্রহ ও পরিচালন ব্যয় কমানোর দিকেও নজর দিচ্ছে টিসিবি। ব্যাংকঋণের পরিবর্তে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া তুলনামূলক কম সুদের প্রস্তাব দেওয়া বেসরকারি ব্যাংকের সেবা নেওয়া এবং অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বিক্রির অর্থ জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু হয়েছে।

পরিবহন এবং পণ্য ওঠানো-নামানোসহ অন্যান্য খরচ কমাতে আঞ্চলিক গুদাম থেকে সরাসরি পণ্য বিতরণের ব্যবস্থাও চালু করেছে সংস্থাটি।

ফয়সল আজাদ বলেন, ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী দাম বজায় রেখে ভর্তুকির চাপ কমাতে হলে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি আয়ও বাড়াতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা শুধু খরচ কমিয়ে ভর্তুকির বোঝা কমাতে পারব না। আমাদের আয়ও বাড়াতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে কয়েকটি পণ্য বাজারে এনেছি। আগামী মাসগুলোতে আরও পণ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্র থেকে নিয়মিত কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুযোগ পেলে একটি পরিবারের বছরে কয়েক হাজার টাকা সাশ্রয় হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই মানুষ টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্রে এসে প্রতি মাসে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনুক। ধীরে ধীরে পণ্যের পরিসর বাড়ানো হবে। তবে ভর্তুকির বোঝা কমাতে এবং অতিরিক্ত আয় করতে আমাদের পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে হবে।’

নিত্যপণ্য সংগ্রহের বিষয়ে টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, চিনি ও অন্যান্য নিয়মিত পণ্য কেনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরিচালনগত প্রয়োজন বিবেচনায় টয়লেট সাবান ও কাপড় কাচার সাবানও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তবে পেঁয়াজ ও আলু সারা বছর নিয়মিতভাবে কেনে না সংস্থাটি। বাজারের পরিস্থিতি এবং সরকারের প্রয়োজন বিবেচনা করেই এসব পণ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ফয়সল আজাদ বলেন, ‘২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আমরা পেঁয়াজ কিনেছিলাম। বর্তমানে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। তাই এখনই নতুন করে পেঁয়াজ কেনার পরিকল্পনা নেই।’

তিনি আরও জানান, বাজারে প্রয়োজন দেখা দিলে সরকার পেঁয়াজ ও আলু সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা না করে বছরজুড়ে এসব পণ্য কেনার পরিকল্পনা টিসিবির নেই।

ট্যাগ : টিসিবি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


নভেম্বর থেকে হলুদ-মরিচের গুঁড়া ও চা বিক্রি করবে টিসিবি

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাণিজ্যিক আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন পণ্য বিক্রির পরিসর বাড়াচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি আটা বিক্রির পরিকল্পনা এবং বাজারের চাহিদা যাচাই করে আরও কয়েকটি পণ্য যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানান, ভোক্তাদের সাশ্রয়ী দামে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সংস্থার নিজস্ব আয় বাড়াতেও পণ্যের বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রি শুরু করেছি। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। চা বিক্রিরও অনুমোদন পেয়েছি। আশা করছি, নভেম্বরেই এটি বাজারে আনতে পারব।’

টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, আটা বিক্রির বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে। এ ছাড়া বাজারের চাহিদা যাচাই করতে জরিপ চালানো হচ্ছে। জরিপের ফল ইতিবাচক হলে আরও নতুন পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বর্তমানে সংস্থাটি কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি করছে। এসব পণ্য প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় কম দামে বিক্রি করা হলেও সংগ্রহমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাচ্ছেন, পাশাপাশি টিসিবিও সামান্য মুনাফা করছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে সংস্থাটির মুনাফা হয়েছে ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক আয় বাড়িয়ে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানোর মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে টিসিবি।

ফয়সল আজাদের ভাষ্য, পণ্যের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে সংস্থাটির আয় বাড়বে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে অতিরিক্ত আয় করা।’

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রসারিত পণ্যসম্ভারের মাধ্যমে এক কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারলে টিসিবির প্রায় ৭০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় বা আর্থিক সুবিধা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তবে এ পরিমাণ আয় নির্ভর করবে পণ্য বিক্রির পরিমাণ এবং পরিচালন কার্যক্রম কতটা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে, তার ওপর।

বর্তমানে নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে টিসিবি। চলতি অর্থবছরে এ সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী অর্থবছরে গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার লক্ষ্য সংস্থাটির।

চেয়ারম্যান জানান, নতুন পণ্য বিক্রি শুরুর পর চার মাস পার হয়েছে। ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটামুটি ভালো সাড়া পাওয়া গেলেও গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়াতে চায় টিসিবি।

নতুন পণ্য যুক্ত হলেও বর্তমানে ভর্তুকির আওতায় বিক্রি হওয়া পণ্যগুলোর দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘সরকার ভর্তুকির আওতায় বর্তমানে যেসব পণ্য বিক্রি করছে, সেগুলোর দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। আগের দামেই এসব পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে।’

নতুন পণ্যগুলোও প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় কম দামে বিক্রি করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন ফয়সল আজাদ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, নতুন পণ্যগুলোর দামও প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম থাকবে।’

তবে নতুন পণ্য কেনা বা না কেনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ভোক্তাদের ওপর থাকবে। একসঙ্গে সব পণ্য যুক্ত না করে ধাপে ধাপে পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। এর উদ্দেশ্য, ক্রেতারা যেন টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্র থেকেই এক জায়গায় তাঁদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্য কিনতে পারেন।

স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বিতরণ কর্মসূচির বাইরেও ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির সম্ভাবনা যাচাই করছে টিসিবি। এর অংশ হিসেবে ভোজ্যতেল বিক্রির পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে পণ্য সরবরাহ ও বিক্রির জন্য সম্ভাব্য ডিলারদের কাছ থেকে আবেদনও চেয়েছে সংস্থাটি।

পণ্যের পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি সংগ্রহ ও পরিচালন ব্যয় কমানোর দিকেও নজর দিচ্ছে টিসিবি। ব্যাংকঋণের পরিবর্তে নগদ অর্থে চিনি ও মসুর ডাল কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া তুলনামূলক কম সুদের প্রস্তাব দেওয়া বেসরকারি ব্যাংকের সেবা নেওয়া এবং অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে বিক্রির অর্থ জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু হয়েছে।

পরিবহন এবং পণ্য ওঠানো-নামানোসহ অন্যান্য খরচ কমাতে আঞ্চলিক গুদাম থেকে সরাসরি পণ্য বিতরণের ব্যবস্থাও চালু করেছে সংস্থাটি।

ফয়সল আজাদ বলেন, ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী দাম বজায় রেখে ভর্তুকির চাপ কমাতে হলে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি আয়ও বাড়াতে হবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা শুধু খরচ কমিয়ে ভর্তুকির বোঝা কমাতে পারব না। আমাদের আয়ও বাড়াতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে কয়েকটি পণ্য বাজারে এনেছি। আগামী মাসগুলোতে আরও পণ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্র থেকে নিয়মিত কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুযোগ পেলে একটি পরিবারের বছরে কয়েক হাজার টাকা সাশ্রয় হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই মানুষ টিসিবির বিক্রয়কেন্দ্রে এসে প্রতি মাসে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনুক। ধীরে ধীরে পণ্যের পরিসর বাড়ানো হবে। তবে ভর্তুকির বোঝা কমাতে এবং অতিরিক্ত আয় করতে আমাদের পণ্যের সংখ্যা বাড়াতে হবে।’

নিত্যপণ্য সংগ্রহের বিষয়ে টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, চিনি ও অন্যান্য নিয়মিত পণ্য কেনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরিচালনগত প্রয়োজন বিবেচনায় টয়লেট সাবান ও কাপড় কাচার সাবানও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তবে পেঁয়াজ ও আলু সারা বছর নিয়মিতভাবে কেনে না সংস্থাটি। বাজারের পরিস্থিতি এবং সরকারের প্রয়োজন বিবেচনা করেই এসব পণ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ফয়সল আজাদ বলেন, ‘২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আমরা পেঁয়াজ কিনেছিলাম। বর্তমানে পেঁয়াজের কোনো সংকট নেই। তাই এখনই নতুন করে পেঁয়াজ কেনার পরিকল্পনা নেই।’

তিনি আরও জানান, বাজারে প্রয়োজন দেখা দিলে সরকার পেঁয়াজ ও আলু সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা না করে বছরজুড়ে এসব পণ্য কেনার পরিকল্পনা টিসিবির নেই।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ