যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করেছে ইরান। সোমবার দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, এ সপ্তাহে কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ও সিএনএনসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে শুরু হওয়া বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মঙ্গলবার কাতারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা বৈঠক করতে পারেন।
তবে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে গরিবাবাদি বলেন, দোহায় দুই পক্ষের বৈঠকের খবর নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বৈঠকের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে এবং তারিখ ও স্থান নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে প্রথম দফার কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। কাতারের সঙ্গে পরামর্শ, বিশেষ করে অপর পক্ষের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিকভাবেই চলমান আছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কারিগরি দল দোহায় অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনায় বসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছিল। তবে ইরানের পক্ষ থেকে বৈঠক নিশ্চিত না করার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে কাতারে বৈঠকের খবর নাকচের দিনেই তেহরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেছেন।
এক্সে দেওয়া পোস্টে গরিবাবাদি জানান, মাসকাট সফরের সময় ‘যৌথ হরমুজ কমিটি’র প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে প্রণালির বর্তমান সমস্যা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে খোলামেলা মতবিনিময় হয়েছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে এটিই প্রথম বৈঠক।
হরমুজ প্রণালি ওমান ও ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সাধারণত কোনো দেশই এই প্রণালি দিয়ে অন্য দেশের নৌযান চলাচল বন্ধ করতে বা একতরফাভাবে টোল আদায় করতে পারে না।
বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ