ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। পুলিশি বাধা ও ব্যাপক ধরপাকড়ের মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে তরুণ আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ সমাবেশ করার কথা ছিল। তবে সেখানে জমায়েত ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানো বন্ধ করতে হাজার হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন সড়কে লোহার ব্যারিকেড স্থাপনসহ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।
এ সময় আন্দোলনে অংশ নিতে আসা অনেককে আটক করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানান রাহুল গান্ধী।
তিনি লিখেছেন, “সব নেতাকে গ্রেপ্তার করুন। সব তরুণকে গ্রেপ্তার করুন, আমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করুন। আমরা আপনাদের ঘিরে ধরছি এবং আমরা পিছিয়ে যাব না।”
আন্দোলনের পাশাপাশি ভারতের সংবিধান ও নাগরিক অধিকার রক্ষার বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন কংগ্রেসের এই নেতা।
রাহুল গান্ধী আরও লিখেছেন, “আমার কথা লিখে রাখুন, আমাদের যে তথ্যের দরকার তা ইতিমধ্যে আমরা পেয়ে গেছি। আমরা আমাদের সংবিধানকে রক্ষা করব। আমরা ভারতীয়দের বাক স্বাধীনতাকে রক্ষা করব। আমরা একই সঙ্গে নিশ্চিত করব, গত ১৫-১৬ বছরে ভারতে যা হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি আর হবে না।”
তরুণ আন্দোলনকারীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
রাহুল গান্ধী বলেন, “ভারতের তরুণরা, তোমাদের নিয়ে আমি গর্বিত। আন্দোলন অব্যাহত রাখো। আমরা তোমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছি।”
এদিকে ভারতের ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
দলটির অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়।
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে নির্ধারিত স্থানে আন্দোলনকারীদের জড়ো হতে বাধার মুখে পড়তে হয়।
এ অবস্থায় রাহুল গান্ধীর সমর্থন আন্দোলনকারীদের প্রতি বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংহতির প্রকাশ হিসেবে সামনে এসেছে।
সূত্র : এনডিটিভি
মন্তব্যসমূহ