ভারতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আটক তরুণ নেতা ও আন্দোলনকারীদের অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে লড়াইরত তরুণদের কণ্ঠস্বরকে ভারত সরকার দমন ও হেয় করার পথ বেছে নিয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। বিক্ষোভের আগেই ধ্রুব রাঠি এবং কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ একাধিক তরুণ আইকনকে গ্রেফতারের ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে এনসিপির এই মুখপাত্র অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ভারত সরকার পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থায় একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
এসব পদক্ষেপের মধ্যে শত শত ট্রেনের সময়সূচি বাতিল, বাস চলাচল বন্ধ, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং বিক্ষোভস্থলের চারপাশে ব্যারিকেড স্থাপনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
আসিফ মাহমুদের মতে, এসব পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের পরিপন্থী এবং উদ্বেগজনক।
আটক ব্যক্তিদের মুক্তি ও আন্তর্জাতিক সংহতির আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভারত সরকারকে অবিলম্বে আটক সবাইকে মুক্তি দেওয়ার এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও প্রতিবাদ করার মৌলিক অধিকারকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি এ সংকটময় মুহূর্তে বিশ্বের তরুণদেরও ভারতের তরুণদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ন্যায়সংগত দাবিতে লড়াই করতে গিয়ে তারা সরকারের দমন-পীড়নের মুখে পড়ছেন।’
এদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক পুলিশি তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভে অংশ নিতে যাওয়া একাধিক ব্যক্তিকে আটক করার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই পুলিশের হাতে আটক হন। পরে তাঁদের পৃথক আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রের বরাতে আরও জানানো হয়েছে, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকায় তাঁর বাসা থেকে আটক করা হয়েছে।
এ ছাড়া আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, অধিকারকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরার নামও উঠে এসেছে।
তবে এসব আটকের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সরবরাহকৃত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
মন্তব্যসমূহ