ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিরোধিতায় ‘লাল হিট জনতা পার্টি’

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভের বিরোধিতা করে নতুন একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী সক্রিয় হয়েছে। ‘লাল হিট জনতা পার্টি’ নামে দলটি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রথম সদস্য সমাবেশ করেছে।রোববার (১৮ অক্টোবর) দিল্লির মালবীয় স্মৃতি ভবনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।দিল্লির কনট প্লেসসহ বিভিন্ন এলাকায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। এরই মধ্যে ওই আন্দোলনের বিরোধিতায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে লাল হিট জনতা পার্টি।সমাবেশে দলটির প্রধান অয়ন ভাটনাগর জানান, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং স্বল্প সময়ের আহ্বানেও বিপুলসংখ্যক মানুষকে একত্র করা সম্ভব—এটি দেখানোই ছিল তাঁদের আয়োজনের উদ্দেশ্য।তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে কোনো সমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানালে সেখানে কত মানুষ উপস্থিত হতে পারেন।অয়ন ভাটনাগরের অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা দুর্বল করছে।সমাবেশে তিনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, কংগ্রেস এবং বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমালোচনা করেন।ভাটনাগর বলেন, নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মাধ্যমে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নয়, সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপরও অনাস্থা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আজ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করা হলে ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও তোলা হতে পারে।কোনো দাবির সমর্থনে ৫০ হাজার মানুষ একত্র হলেই তা মেনে নেওয়া বাধ্যতামূলক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় ২০২৩ সালে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য চালু করা পদ্ধতির প্রসঙ্গ তোলেন ভাটনাগর। তাঁর দাবি, ওই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তোলার আগে নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং আগের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারদের দায়িত্ব পালনের ইতিহাস পর্যালোচনা করা উচিত বলে মত দেন তিনি।আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের ‘শাসন পরিবর্তন’ সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গেও কথা বলেন লাল হিট জনতা পার্টির প্রধান।বিক্ষোভের মাধ্যমে কীভাবে সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।অয়ন ভাটনাগর দাবি করেন, গণতন্ত্র রক্ষার উদ্দেশ্যেই তাঁদের দল গঠন করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সিজেপির আন্দোলনের লক্ষ্য পুলিশ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করা।তিনি আরও দাবি করেন, সিজেপি কংগ্রেস ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সমর্থন পাচ্ছে। এসব গোষ্ঠী বিজেপি সরকারকে সরিয়ে নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।সমাবেশে কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়নের আহ্বান জানান ভাটনাগর।একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকটি গোষ্ঠীর রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে দেশের পরিবেশ ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।দশরা থেকে দীপাবলি পর্যন্ত সময়কে ব্যবসায়ীদের জন্য বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিল্লির কনট প্লেসের মতো বাণিজ্যিক এলাকায় বিশৃঙ্খলা মেনে নেওয়া হবে না।তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা দিল্লিসহ কয়েকটি বড় শহরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছেন।দশরাকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে অয়ন ভাটনাগর সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরে এসে সরাসরি রাজপথে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ‘কীটপতঙ্গ’, ‘তেলাপোকা’ এবং ‘তেলাপোকার মতো প্রাণী’ বলে অবমাননাকর মন্তব্য করেন।ভাটনাগর আরও বলেন, দশরার দিন থেকেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র পতন শুরু হবে বলে তিনি মনে করেন। একে তিনি অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেন।বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিনি।ভাটনাগরের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সূর্য নমস্কার করেন এবং হয়তো মৌখিক অপমান সহ্য করতে পারেন। কিন্তু তাই বলে অন্যদেরও অপমান মেনে নিতে হবে, এমন নয়।তিনি বলেন, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অপমান করা কিংবা পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্টের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।সমাবেশে উপস্থিত কত্থক নৃত্যশিল্পী রিচা গুপ্তা দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের মর্যাদা বেড়েছে।রিচা গুপ্তা বলেন, ভারতে বিপুলসংখ্যক তরুণ রয়েছে। তবে তাঁর অভিযোগ, তরুণদের একটি অংশ নিজেরা সঠিক পথ বেছে নেওয়ার পরিবর্তে অন্যদের অনুসরণ করছে।অন্যদিকে অনুষ্ঠানে সাংবাদিক পবন কীটনাশক ব্র্যান্ড ‘হিট’-এর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘যেখানে তেলাপোকা আছে, সেখানে হিট থাকবেই।’চলমান আন্দোলনের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।এই ক্ষতির পরিমাণ ভবিষ্যতে ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।পবন জানান, গত তিন দিন ধরে তিনি লাল হিট জনতা পার্টির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।তবে ব্যবসায়িক ক্ষতির এসব পরিসংখ্যানের পক্ষে কোনো স্বতন্ত্র হিসাব বা যাচাইযোগ্য তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।দলের সমর্থন প্রসঙ্গে অয়ন ভাটনাগর জানান, ভারত ছাড়াও কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাঁরা সমর্থন পাচ্ছেন।সমাবেশের বক্তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমাবদ্ধ না থেকে নিজেদের অবস্থান জানাতে সরাসরি মাঠে নামার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।সূত্র: এনডিটিভি।

দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিরোধিতায় ‘লাল হিট জনতা পার্টি’