ঢাকা    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ব্যাংক খাত বাঁচাতে পাঁচ থেকে আট বছর অর্থায়ন প্রয়োজন: গভর্নর

ব্যাংক খাত বাঁচাতে পাঁচ থেকে আট বছর অর্থায়ন প্রয়োজন: গভর্নর
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

দেশের ব্যাংকিং খাতে তৈরি হওয়া আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ অর্থ জাতীয় বাজেট থেকে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক আয়োজিত ‘বাংলা কিউআর’ লেনদেনের প্রচারণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

গভর্নরের দাবি, গত কয়েক বছরে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ লুটপাট ও পাচারের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাঁরা বিপুল পরিমাণ অর্থের ঘাটতি দেখতে পান। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের কারণে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি জানান, গত কয়েক মাস ধরে অনেক আমানতকারী তাঁদের জমা অর্থ ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে এবং বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করছেন। সাধারণ মানুষের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের সম্ভাব্য ব্যয়ের তুলনা তুলে ধরে গভর্নর বলেন, প্রতিবছর প্রয়োজনীয় ৬০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে সরকার চাইলে দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারত। একই অর্থ দিয়ে প্রায় দুই কোটি পরিবারকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সুযোগও থাকত।

তাঁর মতে, কিছু ব্যক্তির অর্থ লুটপাটের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি এখন জনগণের করের অর্থ দিয়ে পূরণ করতে হচ্ছে। এর আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ নাগরিকদের ওপরই পড়ছে।

আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে মোস্তাকুর রহমান জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আটকে থাকা আমানত ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ব্যাংকের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ব্যাংকগুলোর আমানতসংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যাও শনাক্ত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন গভর্নর।

ঋণখেলাপিদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া ঋণ পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও যাঁরা ঋণ পরিশোধ করবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে ২০২৭ সাল থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর সম্ভাবনাও তুলে ধরেন গভর্নর।

তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা আগের লক্ষ্যের তুলনায় দুই লাখ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। দেশব্যাপী বাংলা কিউআর লেনদেন সম্প্রসারণ করা গেলে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হতে পারে।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে রয়েছে। ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ানো গেলে এ অনুপাত ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত কেনাবেচার পূর্ণাঙ্গ হিসাব আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় প্রতিফলিত হয় না। বাংলা কিউআর ব্যবহার বাড়লে লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ সহজ হবে এবং তা রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন গভর্নর। তিনি জানান, সন্দেহজনক ও অবৈধ লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করার প্রযুক্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে। বাংলা কিউআর ব্যবস্থাকেও নিরাপদ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিঞা, ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এখন থেকে ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট কিছু পরিশোধে শিক্ষার্থীরা বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারবেন। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্টলও স্থাপন করা হয়।

ট্যাগ : বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক খাত বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


ব্যাংক খাত বাঁচাতে পাঁচ থেকে আট বছর অর্থায়ন প্রয়োজন: গভর্নর

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশের ব্যাংকিং খাতে তৈরি হওয়া আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ অর্থ জাতীয় বাজেট থেকে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক আয়োজিত ‘বাংলা কিউআর’ লেনদেনের প্রচারণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

গভর্নরের দাবি, গত কয়েক বছরে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ লুটপাট ও পাচারের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাঁরা বিপুল পরিমাণ অর্থের ঘাটতি দেখতে পান। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের কারণে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি জানান, গত কয়েক মাস ধরে অনেক আমানতকারী তাঁদের জমা অর্থ ফেরতের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে এবং বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করছেন। সাধারণ মানুষের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের সম্ভাব্য ব্যয়ের তুলনা তুলে ধরে গভর্নর বলেন, প্রতিবছর প্রয়োজনীয় ৬০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে সরকার চাইলে দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারত। একই অর্থ দিয়ে প্রায় দুই কোটি পরিবারকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সুযোগও থাকত।

তাঁর মতে, কিছু ব্যক্তির অর্থ লুটপাটের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি এখন জনগণের করের অর্থ দিয়ে পূরণ করতে হচ্ছে। এর আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ নাগরিকদের ওপরই পড়ছে।

আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে মোস্তাকুর রহমান জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আটকে থাকা আমানত ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ব্যাংকের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ব্যাংকগুলোর আমানতসংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যাও শনাক্ত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন গভর্নর।

ঋণখেলাপিদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া ঋণ পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও যাঁরা ঋণ পরিশোধ করবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে ২০২৭ সাল থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর সম্ভাবনাও তুলে ধরেন গভর্নর।

তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা আগের লক্ষ্যের তুলনায় দুই লাখ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। দেশব্যাপী বাংলা কিউআর লেনদেন সম্প্রসারণ করা গেলে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হতে পারে।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে রয়েছে। ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ানো গেলে এ অনুপাত ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত কেনাবেচার পূর্ণাঙ্গ হিসাব আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় প্রতিফলিত হয় না। বাংলা কিউআর ব্যবহার বাড়লে লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ সহজ হবে এবং তা রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন গভর্নর। তিনি জানান, সন্দেহজনক ও অবৈধ লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করার প্রযুক্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে। বাংলা কিউআর ব্যবস্থাকেও নিরাপদ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউআইইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিঞা, ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এখন থেকে ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট কিছু পরিশোধে শিক্ষার্থীরা বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারবেন। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্টলও স্থাপন করা হয়।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ