ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পুলিশি হেফাজতে থাকা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান অভিজিৎ দীপকের দাদি সাবিত্রীবাই শঙ্কর দীপকে মারা গেছেন। পরিবারের অভিযোগ, অভিজিৎ আটক থাকায় তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দাদির শেষকৃত্যে তিনি অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার সান্তুক পিম্পরি গ্রামে নিজ বাড়িতে মারা যান সাবিত্রীবাই দীপকে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে দিল্লি পুলিশ এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ৩১ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকেকে হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই তার দাদির মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, মানবিক বিবেচনায় তাকে বিশেষ বিমানে মহারাষ্ট্রের পৈতৃক গ্রামে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি দাদির শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।
দিল্লি পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, অভিজিৎ শেষকৃত্যে যোগ দিতে বাড়ি ফিরবেন, নাকি পুলিশি হেফাজতে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটি তার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে পুলিশের এই বক্তব্যের বিপরীতে পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগসংক্রান্ত জটিলতার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিজিতের বাবা ভগবানরাও দীপকে বিসিসি মারাঠিকে জানিয়েছেন, তার মা মহারাষ্ট্রের গ্রামের বাড়িতে মারা গেছেন। কিন্তু ছেলে দিল্লিতে আটক থাকায় এবং যোগাযোগের সুযোগ না পাওয়ায় মৃত্যুসংবাদ সরাসরি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
একই সঙ্গে অভিজিৎকে দাদির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য প্যারোল বা মুক্তি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও পরিবার অনিশ্চয়তায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অভিজিতের বাবা ভগবানরাও দীপকে ও মা অনিতা দীপকে বর্তমানে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে অবস্থান করছেন। সেখানে তাদের বাড়ি পুলিশ ঘিরে রেখেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় সিজেপি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল দলটি।
ওই কর্মসূচিতে অংশ নিতে শনিবার সকালে মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান অভিজিৎ দীপকে ও তার সহযোগীরা।
সিজেপির অভিযোগ, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বিমান থেকেই অভিজিৎ ও তার সহযোদ্ধাদের আটক করে পুলিশ। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
দলটির নেতাকর্মী ও পরিবারের দাবি, আটকের পর অভিজিতের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, দাদির মৃত্যুর বিষয়টি অভিজিৎকে জানানো হয়েছে এবং শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও পরিবারের এসব পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যে অভিজিৎ দীপকে শেষ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে ফিরবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র : এনডিটিভি
মন্তব্যসমূহ