ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

‘বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী’ করার দাবিতে টিভিকে-কংগ্রেস জোটে অস্বস্তি

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া সি জোসেফ বিজয়কে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার দাবি ঘিরে রাজ্যের ক্ষমতাসীন জোটে নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগামের কয়েকজন নেতা তাকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রকাশ্যে তুলে ধরার পর আপত্তি জানিয়েছে জোটসঙ্গী কংগ্রেস। বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা এস রাজেশ কুমার।তিনি জানিয়েছেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে রাহুল গান্ধীকেই সমর্থন করতে হবে টিভিকেকে। দলটি এতে রাজি না হলে বিজয় মন্ত্রিসভায় থাকা কংগ্রেসের দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।[BANGVIEWS-POST:4859]রাজেশ কুমার বলেন, কংগ্রেসের অবস্থান পরিষ্কার। আগামী লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধীকেই তারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। জোটসঙ্গী টিভিকে যদি ভিন্ন অবস্থান নেয়, তাহলে রাজ্য মন্ত্রিসভায় কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখা কঠিন হবে।সাম্প্রতিক সময়ে টিভিকে নেতা আধাভ অর্জুন ও শরৎকুমারসহ দলের কয়েকজন নেতা জাতীয় রাজনীতিতে বিজয়ের বড় ভূমিকার সম্ভাবনার কথা বলতে শুরু করেন। তামিলনাড়ুর বিভিন্ন এলাকায় বিজয়কে ২০২৯ সালের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরে পোস্টারও দেখা গেছে।এই প্রচারণা আরও জোরালো হয়েছে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর। সাম্প্রতিক একটি জনমত জরিপে জাতীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীদের তালিকায় বিজয়ের নাম উঠে আসার পর তার সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা বেড়েছে।টিভিকে ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ বিধায়কের সমর্থন।নিজেদের আসন দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় কংগ্রেস, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি, সিপিআই, সিপিআই(এম) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেন বিজয়। সব মিলিয়ে জোটের পক্ষে ১২১ জন বিধায়কের সমর্থন তৈরি হয়।বর্তমান মন্ত্রিসভায় কংগ্রেসের দুই নেতা রয়েছেন। তাদের একজন পর্যটনমন্ত্রী এস রাজেশ কুমার এবং অন্যজন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী পি বিশ্বনাথন। ফলে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নিয়ে মতপার্থক্য জোটের রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।[BANGVIEWS-POST:4858]এদিকে জোটসঙ্গী এমডিএমকের প্রধান ভাইকোও জাতীয় পর্যায়ে রাহুল গান্ধীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জোটের নেতাদের প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।ভাইকোর মতে, জাতীয় পর্যায়ে বিরোধী জোটে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে জোটসঙ্গীদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।তবে ‘বিজয় ফর পিএম’ প্রচারণা কিংবা কংগ্রেস মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো চূড়ান্ত অবস্থান জানাননি।মাত্র ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত টিভিকে দুই বছরের মধ্যে তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় আসার পর বিজয়ের জাতীয় রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ২০২৯ সালের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নিয়ে বর্তমান বিতর্ক জোটের ভেতরের রাজনৈতিক ভারসাম্য কতটা বদলে দেবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

‘বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী’ করার দাবিতে টিভিকে-কংগ্রেস জোটে অস্বস্তি