ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে পেলেট বা ছররা গুলি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। আহত কয়েকজন বিক্ষোভকারীর বক্তব্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত নথির ভিত্তিতে অভিযোগটি সামনে এলেও দিল্লি পুলিশ তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।গত ২০ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিমুখে মিছিলের সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের পাশাপাশি পেলেট ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। ওই সময় দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) অধীন র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সও মোতায়েন ছিল।[BANGVIEWS-POST:2437]দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুগ্রামে কর্মরত ২৫ বছর বয়সী এমবিএ স্নাতক ইরশাদ শেখ মুখ, চোখ, নাক, ঘাড়, কাঁধ ও বুকে একাধিক পেলেটের আঘাত পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। দিল্লির লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার আঘাতের কারণ নিশ্চিত করেনি।হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, ‘পেলেট ইনজুরি’ বলতে দ্রুতগতিতে ছুটে আসা ছোট কোনো বস্তুর আঘাতকেও বোঝানো হতে পারে। আঘাতটি পেলেট গান থেকেই হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক তদন্ত প্রয়োজন।অন্যদিকে, সাহিল নামে ১৯ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীর ডান চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাকে সঙ্গে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দায়ী নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা প্রার্থনা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।[BANGVIEWS-POST:2435]দিল্লি পুলিশ বলেছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে তাদের সদস্যদের পেলেট গান ব্যবহারের দাবি ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’। পুলিশ আরও দাবি করেছে, তাদের কাছে এমন অস্ত্র নেই। তবে ওই দিন মোতায়েন থাকা র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স অভিযোগটির বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।ফ্যাক্ট চেক: একাধিক বিক্ষোভকারীর শরীরে পেলেটজাতীয় ক্ষতের তথ্য ও অস্ত্রোপচারের বিবরণ পাওয়া গেলেও কোন অস্ত্র থেকে সেগুলো ছোড়া হয়েছে এবং কে ছুড়েছে, তা স্বাধীন ফরেনসিক তদন্তে এখনো প্রমাণিত হয়নি। ফলে ‘দিল্লি পুলিশ পেলেট গান ব্যবহার করেছে’—এ বক্তব্যকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নয়, গুরুতর কিন্তু অমীমাংসিত অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করাই যথাযথ।সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস