সৌদি আরবের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৬ জন। বুধবার (৭ অক্টোবর) দেশটির আভা ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আভা বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুজন বাসিন্দা নিহত হন। আহত হন আরও ২৮ জন। অন্যদিকে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় সুদানের একজন নাগরিক নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন।
হামলার পরপরই এর দায় স্বীকার করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা বলে এপি নিউজ জানিয়েছে।
হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানান, রিয়াদের উত্তরাঞ্চলের দিকে আসা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের সানা থেকে রিয়াদে হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্মটিও বিমান হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পরপর হামলার পর রিয়াদে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির জ্বালানি ট্যাংক ও সংবেদনশীল সরঞ্জামের চারপাশে অতিরিক্ত সুরক্ষা হিসেবে খাঁচার মতো শক্তিশালী বেড়া স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব ও তার মিত্র ইয়েমেনি বাহিনী হুতিদের কাছ থেকে বাব আল-মানদেব প্রণালি ও লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের যৌথ অভিযান শুরু করেছে। বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ যে পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের বেশ কয়েকটি পয়েন্ট ইতোমধ্যে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা জানিয়েছে জোটের সামরিক সূত্র।
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে এরই মধ্যে দুই লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় দেশটির তেল অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনায় হামলা বৃদ্ধির ঘটনায় হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগরের বিকল্প বাণিজ্যিক নৌপথগুলোতেও সামরিক ও বাণিজ্যিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সূত্র : এপি নিউজ
মন্তব্যসমূহ