সাভার ও আশুলিয়ার তুরাগ নদী থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধারের দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এর কোনো সত্যতা নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা জেলা পুলিশ। পুলিশ বলছে, সম্প্রতি নদী থেকে দুটি পৃথক ঘটনায় দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু সেই ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
রোববার বিকেলে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ২৬ জুন রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে আশুলিয়ার তুরাগ নদী থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা মরদেহটি শনাক্ত করলে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি আশুলিয়ার বাসিন্দা মো. সুমন। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া ২৪ জুন দুপুরে আশুলিয়ার তুরাগ নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন রনি মোল্লা। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রায় ৩০ মিনিটের অভিযানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনাতেও সাভার মডেল থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, এই দুটি পৃথক ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তুরাগ নদীতে সাতটি লাশ উদ্ধার’ সংক্রান্ত গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ঢাকা জেলায় মোট ১৭৩টি অপমৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। আলোচিত দুটি ঘটনাও ওই পরিসংখ্যানের অন্তর্ভুক্ত। তবে তুরাগ নদীতে সাতটি মরদেহ উদ্ধারের দাবির কোনো ভিত্তি নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে যাচাই করা তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
মন্তব্যসমূহ