ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্য ও দাফন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক শোকানুষ্ঠান। পরে পবিত্র শহর কোমে আয়োজন শেষে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানে তিন দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠানের পর ৭ জুলাই কোমে আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে ৯ জুলাই দাফন সম্পন্ন করা হবে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ইরানের পুলিশ প্রশাসন এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত থাকবে।
মেহের নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাকেও খামেনির স্মরণে বিশেষ শোকসভার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিয়া অধ্যুষিত পবিত্র কারবালা শহরের একটি মাজার বা উপাসনালয়ে স্মরণসভা আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে ইরাকের এই আয়োজনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মৃত্যুর পরপরই শেষকৃত্যের আয়োজনের কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা কয়েক দফা পেছানো হয়।
ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামরিক কর্মকর্তা এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের একসঙ্গে উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এই আয়োজনকে ইরানের জন্য বড় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে ছিলেন। তার মৃত্যু দেশটির রাজনীতি, নিরাপত্তা কাঠামো এবং আঞ্চলিক কৌশলে বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ