যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস, আইআরজিসি। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এই হামলার কারণে দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের এই সামরিক বাহিনী।
রোববার ভোরে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। একই সময়ে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিক ও বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের আগের হামলার জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সমুদ্রে মাইন পাতা সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন হামলার পর নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয় আইআরজিসির নৌবাহিনী। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো আগামী দিনগুলোতে কঠোর জবাবের মুখে পড়বে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানায়, সিরিক শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করতে পারেনি। প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে বলেও জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পদক্ষেপ অন্য জাহাজগুলোর জন্যও একটি সতর্কবার্তা। কোন পথে নিরাপদে চলাচল করতে হবে, তা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে তার জবাব আরও কঠোর হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ