ইরানের সঙ্গে চুক্তির পরও দেশটির বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন হামলার জবাবে পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ ইউনিট।
রোববার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির নৌ-কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সিরিক শহরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবস্থান বদলাতে পারেনি। প্রণালিতে নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানায় তারা।
বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও বলেছে, এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর হিসাব আলাদা। আগামী দিনগুলোতে এসব ঘাঁটিকে নরকে পরিণত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এদিকে বাহরাইনে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা ও তাসনিম নিউজ আইআরজিসির বরাতে জানায়, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আইআরজিসির দাবি, ইরানের নৌ ও বিমান ইউনিট কুয়েতের আলি আল সালেম মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের মানামায় পোর্ট সালমানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় অবস্থানে মার্কিন হামলার জবাবেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে জানায় বাহিনীটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান বাহরাইন, কুয়েতসহ প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
ওই মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে কোনো মার্কিন সেনা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ