আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার ক্ষমতায় ফিরলে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভূমধ্যসাগর থেকে জর্ডান নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ডে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জায়গা নেই।
নেতানিয়াহু জানান, তিনি যে জাতীয় সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, সেখানে দুই রাষ্ট্র সমাধান প্রত্যাখ্যান করা অন্যতম প্রধান নীতি হবে। তার ভাষ্য, সমুদ্র থেকে জর্ডান নদী পর্যন্ত অঞ্চলে দুই রাষ্ট্রের বাস্তবতা সম্ভব নয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে ইসরায়েলি সমাজে মতভেদ ছিল। তার মতে, তখনও অধিকাংশ ইসরায়েলি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিরোধিতা করতেন, তবে একটি অংশ এ ধারণাকে সমর্থন করত। কিন্তু চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির পর সেই অবস্থানে বড় পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিরোধিতা এখন ইসরায়েলে জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ইসরায়েলিদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে।
এর আগে লেবাননের সঙ্গে হওয়া ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য ঐতিহাসিক অর্জন বলে বর্ণনা করেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, বৈরুতের সঙ্গে এই বোঝাপড়া ইরান ও হিজবুল্লাহর জন্য বড় ধাক্কা।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আন্তর্জাতিক বোঝাপড়ার ফলে দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অবস্থান স্বীকৃতি পেয়েছে। তার মতে, তেল আবিব নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে ওই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে পারবে।
নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
মন্তব্যসমূহ