প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও পর্যটন ভিসা চালু করছে ভারত। রবিবার থেকে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। এতে দীর্ঘদিন ধরে ভারত ভ্রমণের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব গ্রহণের পর গত বৃহস্পতিবার পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ধাপে ধাপে ভারতের ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক করা হবে। একই সঙ্গে মানবিক বিবেচনায় মেডিক্যাল ভিসা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতে যেতে আগ্রহীরা সহজে সেবা পান।
প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে পর্যটন ভিসার আবেদন জমা দেওয়া যাবে। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য আইভ্যাক কেন্দ্রেও এই সেবা চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রায় সব ধরনের নিয়মিত ভিসা ইস্যু স্থগিত করে ভারত। একই সময়ে দেশজুড়ে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
পরে আগস্টের শেষ দিকে সীমিত পরিসরে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া শুরু হলেও পর্যটন ভিসা চালু হয়নি। ওই সময় শুধু জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় মেডিক্যাল, ব্যবসায়িক, শিক্ষার্থী ও সরকারি কিছু ক্যাটাগরির ভিসা দেওয়া হচ্ছিল।
ভারতের ভিসার জন্য প্রথমে অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। আবেদন ফর্ম সঠিকভাবে পূরণের পর সেটি ডাউনলোড করে রাখতে হবে। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে।
ভিসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে হবে। পরবর্তী কার্যদিবসের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট সাধারণত আগের কার্যদিবসে প্রকাশ করা হয়।
দুপুর ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সাইনআপ এবং ওয়েবফাইল আপলোড করা যাবে। যেসব আবেদনকারী সফলভাবে ওয়েবফাইল আপলোড করবেন, তাদের জন্য একই দিন বিকাল ৫টা থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং শুরু হবে।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের জন্য আইভ্যাকের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে ভিসার ওয়েবফাইলে থাকা ইমেইল ঠিকানা দিয়ে সাইনআপ করতে হবে। সাইনআপের সময় একটি ওটিপি মোবাইল নম্বরে এবং আরেকটি ওটিপি ইমেইলে পাঠানো হবে। প্রথমে ইমেইলের ওটিপি এবং পরে মোবাইল এসএমএসের ওটিপি দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে।
এরপর ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে সাইনআপ সম্পন্ন করতে হবে। বিকাল সাড়ে ৪টার আগে সাইনআপ না করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যাবে না।
সাইনআপ শেষ হলে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। লগইনের পর মোবাইলে পাঠানো ওটিপি দিয়ে প্রবেশ করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাতা দেখা যাবে। সেখানে প্রথমে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। ডকুমেন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য যুক্ত হওয়ার পর স্লট খোলার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু হলে আবার লগইন করতে হবে। এরপর পরবর্তী দিনের জন্য নির্ধারিত একটি স্লট দেখা যাবে। প্রয়োজনে একবার স্লট পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক হওয়ার পর অনলাইনে ভিসা প্রসেসিং ফি পরিশোধ করতে হবে।
আপলোড করা ওয়েবফাইল অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ হতে হবে। এটি ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। পরিবর্তিত, সম্পাদিত বা বিকৃত ফাইল গ্রহণ করা হবে না।
ভিসা আবেদনের সময় মূল পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকতে হবে এবং কমপক্ষে দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে। পাসপোর্টের প্রথম চার পাতা এবং মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন থাকলে তার কপি জমা দিতে হবে। পুরোনো সব পাসপোর্টও জমা দিতে হবে।
সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি লাগবে। ছবিটি তিন মাসের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না এবং আবেদনকারীর পূর্ণ মুখমণ্ডল স্পষ্ট থাকতে হবে।
জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি দিতে হবে। আবাসনের প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ, টেলিফোন, গ্যাস বা পানির বিল জমা দিতে হবে, যা ছয় মাসের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না।
পেশার প্রমাণ হিসেবে চাকরিজীবীদের কর্মস্থলের প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র এবং ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স জমা দিতে হবে।
আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ১৫০ ডলার সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি অথবা হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দেওয়া যেতে পারে।
এর সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ অনলাইন ভিসা আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রে নির্ধারিত স্থানে আবেদনকারীর ছবি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া আবেদন অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হবে।
পর্যটন ভিসার জন্য আলাদা কোনো ভিসা ফি নেই। তবে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ বাবদ আইভ্যাক ১ হাজার ৫০০ টাকা সার্ভিস চার্জ নেয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সময় এই টাকা অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে।
পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার নিয়ম
ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হলে আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে। সেই বার্তার নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।
মন্তব্যসমূহ