ঢাকা    রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট
সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ | ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

দীর্ঘদিনের সরকারবিরোধী আন্দোলন ও ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। শনিবার রাজধানী বেলগ্রেডে আয়োজিত এক সরকারপন্থী সমাবেশে তিনি জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়বেন। একই সঙ্গে দেশে আগাম রাষ্ট্রপতি ও সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

প্রায় ১২ বছর ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা ভুচিচের এই ঘোষণা দেশটির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন পরে দুর্নীতিবিরোধী বৃহৎ গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

বিক্ষোভকারী ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণেই ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ২০০০ সালের পর এটিকে সার্বিয়ার সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সমাবেশে ভুচিচ বলেন, তিনি আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর তিনি পদত্যাগ করবেন। যদিও তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত থাকার কথা ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ভুচিচের এই পদত্যাগ তার রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি নাও হতে পারে। বরং এটি নতুন রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। সার্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও ভুচিচ এতদিন দল ও সরকারের ওপর দৃঢ় প্রভাব ধরে রেখেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর তিনি সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তার দল জয়ী হলে তিনি আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় ফিরতে পারেন। এতে পদবি পরিবর্তন হলেও ক্ষমতার কেন্দ্র ভুচিচের হাতেই থেকে যেতে পারে।

ওয়ারশভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাদিভোয়ে গ্রুইচ বলেছেন, ভুচিচ রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন না। তার সামনে নতুন পরিকল্পনা রয়েছে এবং এই পদক্ষেপকে তার রাজনৈতিক শেষ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের নেতা সাভো মানোজলোভিচ ভুচিচের ঘোষণাকে আন্দোলনের বিজয় হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্য, পদত্যাগ ও আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে ভুচিচ নিজের রাজনৈতিক পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

সমাবেশে ভুচিচ দাবি করেন, বিক্ষোভকারীরা দেশের ক্ষতি করছে এবং তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির প্রভাব রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতি দমন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পেনশন ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদপ্রার্থী দেশ হিসেবে সার্বিয়ার সামনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন এবং দুর্নীতি দমনের শর্ত রয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভুচিচ ও তার ঘনিষ্ঠরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকোচন এবং বিরোধী মত দমনের সঙ্গে জড়িত।

সূত্র : রয়টার্স

ট্যাগ : ইউরোপীয় ইউনিয়ন রয়টার্স সার্বিয়া

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিনের সরকারবিরোধী আন্দোলন ও ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। শনিবার রাজধানী বেলগ্রেডে আয়োজিত এক সরকারপন্থী সমাবেশে তিনি জানান, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়বেন। একই সঙ্গে দেশে আগাম রাষ্ট্রপতি ও সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

প্রায় ১২ বছর ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা ভুচিচের এই ঘোষণা দেশটির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন পরে দুর্নীতিবিরোধী বৃহৎ গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

বিক্ষোভকারী ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণেই ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ২০০০ সালের পর এটিকে সার্বিয়ার সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সমাবেশে ভুচিচ বলেন, তিনি আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর তিনি পদত্যাগ করবেন। যদিও তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত থাকার কথা ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ভুচিচের এই পদত্যাগ তার রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি নাও হতে পারে। বরং এটি নতুন রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। সার্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও ভুচিচ এতদিন দল ও সরকারের ওপর দৃঢ় প্রভাব ধরে রেখেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর তিনি সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তার দল জয়ী হলে তিনি আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় ফিরতে পারেন। এতে পদবি পরিবর্তন হলেও ক্ষমতার কেন্দ্র ভুচিচের হাতেই থেকে যেতে পারে।

ওয়ারশভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাদিভোয়ে গ্রুইচ বলেছেন, ভুচিচ রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন না। তার সামনে নতুন পরিকল্পনা রয়েছে এবং এই পদক্ষেপকে তার রাজনৈতিক শেষ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের নেতা সাভো মানোজলোভিচ ভুচিচের ঘোষণাকে আন্দোলনের বিজয় হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্য, পদত্যাগ ও আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে ভুচিচ নিজের রাজনৈতিক পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

সমাবেশে ভুচিচ দাবি করেন, বিক্ষোভকারীরা দেশের ক্ষতি করছে এবং তাদের পেছনে বিদেশি শক্তির প্রভাব রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতি দমন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পেনশন ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদপ্রার্থী দেশ হিসেবে সার্বিয়ার সামনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন এবং দুর্নীতি দমনের শর্ত রয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভুচিচ ও তার ঘনিষ্ঠরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকোচন এবং বিরোধী মত দমনের সঙ্গে জড়িত।

সূত্র : রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ