লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যেই শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় আরাগুয়া রাজ্যের উপকূলে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে নতুন করে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫১ হাজারের বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয়-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, নতুন ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে। তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না পাওয়া গেলেও, আগের শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধারাবাহিক অনুকম্পনে দেশজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এর আগে গত বুধবার রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। অঞ্চলটিকে দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসের উত্তরাঞ্চলসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগের কিছু অংশ। উদ্ধারকাজ সহজ করতে শুক্রবার রাত থেকে লা গুয়াইরা এলাকায় চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশেষ অনুমতি ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রবেশ করা যাবে না। তবে কারা এই অনুমতি পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী দলের উপস্থিতি প্রয়োজনের তুলনায় কম। অন্যদিকে সরকার দাবি করছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেছেন, এখন প্রতিটি প্রাণ বাঁচানোই একেকটি অলৌকিক ঘটনা। এই ট্র্যাজেডির ভয়াবহতা আড়াল করা হবে না বলেও জানান তিনি।
মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হওয়ায় অনেক এলাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ সদস্যের বিদেশি বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছেন হাজারো মানুষ। একের পর এক অনুকম্পন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও উদ্ধারকাজের ধীরগতির কারণে ভেনেজুয়েলার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখন চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ