ঢাকা    সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইতিহাস গড়ে প্রথমবার পৃথিবীর কক্ষপথে স্টারশিপ

ইতিহাস গড়ে প্রথমবার পৃথিবীর কক্ষপথে স্টারশিপ
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

মহাকাশ অভিযানে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটির বিশালাকৃতির স্টারশিপ রকেট প্রথমবারের মতো সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের স্টারবেস থেকে রকেটটির ১৪তম সমন্বিত পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়। আগের ১৩টি ফ্লাইটই সাব-অরবিটাল গতিপথে পরিচালিত হয়েছিল।

প্রায় ১২৪ মিটার দীর্ঘ স্টারশিপ-সুপার হেভি রকেটটি এবারের মিশনে পৃথিবীর চারপাশে প্রায় ছয়বার প্রদক্ষিণ করার পরিকল্পনা নিয়ে যাত্রা শুরু করে। পুরো অভিযান প্রায় ১০ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার কথা। মিশনের শেষ পর্যায়ে স্টারশিপকে চিলির পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিতভাবে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

উৎক্ষেপণের পর একটি ইঞ্জিন নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিছু সময়ের জন্য মিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে রকেটের অন্যান্য ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকায় অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্পেসএক্স। পরে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করে, স্টারশিপ সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করেছে।

এবারের মিশনে স্টারশিপের সঙ্গে পাঠানো হয়েছে ২৬টি নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইট। এগুলো কক্ষপথে স্থাপনের মাধ্যমে স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। স্টারশিপ ব্যবহার করে কার্যকর স্টারলিংক স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানোর ঘটনাও এটিই প্রথম।

এ মিশনে সুপার হেভি বুস্টার বা স্টারশিপ—কোনোটিকেই উৎক্ষেপণস্থলে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রাখা হয়নি। বুস্টারটি সাগরে নামানোর পরিকল্পনা করা হয়। মিশনের ফলাফল সন্তোষজনক হলে ভবিষ্যতের পরীক্ষায় স্টারশিপের ওপরের ধাপটিকে স্টারবেসে ফিরিয়ে এনে যান্ত্রিক বাহুর সাহায্যে ধরার চেষ্টা করতে পারে স্পেসএক্স।

স্টারশিপের এই অগ্রগতি নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নাসা ২০২৭ সালে আর্টেমিস-৩ মিশনে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ওরিয়ন মহাকাশযানের সঙ্গে স্পেসএক্সের স্টারশিপ ও ব্লু অরিজিনের ব্লু মুন ল্যান্ডারের পরীক্ষামূলক সংস্করণের রঁদেভু ও ডকিং সক্ষমতা যাচাইয়ের পরিকল্পনা করছে।

নাসার বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্টেমিস-৪ অভিযানের মাধ্যমে ২০২৮ সালের শুরুতে আবার মানুষকে চাঁদের পৃষ্ঠে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে। ওই অভিযানে মহাকাশচারীরা চন্দ্রকক্ষপথে ওরিয়ন থেকে একটি বাণিজ্যিক ল্যান্ডারে স্থানান্তরিত হয়ে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে অবতরণ করবেন। কোন প্রতিষ্ঠানের ল্যান্ডার ব্যবহার করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট যানের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করবে।

স্টারশিপকে সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশ পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে স্পেসএক্স। প্রথমবার কক্ষপথে পৌঁছানোর সাফল্য সেই লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যতের চন্দ্র ও গভীর মহাকাশ অভিযানের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : ইলন মাস্ক স্পেসএক্স স্টারশিপ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইতিহাস গড়ে প্রথমবার পৃথিবীর কক্ষপথে স্টারশিপ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মহাকাশ অভিযানে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটির বিশালাকৃতির স্টারশিপ রকেট প্রথমবারের মতো সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের স্টারবেস থেকে রকেটটির ১৪তম সমন্বিত পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়। আগের ১৩টি ফ্লাইটই সাব-অরবিটাল গতিপথে পরিচালিত হয়েছিল।

প্রায় ১২৪ মিটার দীর্ঘ স্টারশিপ-সুপার হেভি রকেটটি এবারের মিশনে পৃথিবীর চারপাশে প্রায় ছয়বার প্রদক্ষিণ করার পরিকল্পনা নিয়ে যাত্রা শুরু করে। পুরো অভিযান প্রায় ১০ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার কথা। মিশনের শেষ পর্যায়ে স্টারশিপকে চিলির পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিতভাবে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

উৎক্ষেপণের পর একটি ইঞ্জিন নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিছু সময়ের জন্য মিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে রকেটের অন্যান্য ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকায় অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্পেসএক্স। পরে প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করে, স্টারশিপ সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করেছে।

এবারের মিশনে স্টারশিপের সঙ্গে পাঠানো হয়েছে ২৬টি নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইট। এগুলো কক্ষপথে স্থাপনের মাধ্যমে স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। স্টারশিপ ব্যবহার করে কার্যকর স্টারলিংক স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানোর ঘটনাও এটিই প্রথম।

এ মিশনে সুপার হেভি বুস্টার বা স্টারশিপ—কোনোটিকেই উৎক্ষেপণস্থলে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রাখা হয়নি। বুস্টারটি সাগরে নামানোর পরিকল্পনা করা হয়। মিশনের ফলাফল সন্তোষজনক হলে ভবিষ্যতের পরীক্ষায় স্টারশিপের ওপরের ধাপটিকে স্টারবেসে ফিরিয়ে এনে যান্ত্রিক বাহুর সাহায্যে ধরার চেষ্টা করতে পারে স্পেসএক্স।

স্টারশিপের এই অগ্রগতি নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নাসা ২০২৭ সালে আর্টেমিস-৩ মিশনে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ওরিয়ন মহাকাশযানের সঙ্গে স্পেসএক্সের স্টারশিপ ও ব্লু অরিজিনের ব্লু মুন ল্যান্ডারের পরীক্ষামূলক সংস্করণের রঁদেভু ও ডকিং সক্ষমতা যাচাইয়ের পরিকল্পনা করছে।

নাসার বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, আর্টেমিস-৪ অভিযানের মাধ্যমে ২০২৮ সালের শুরুতে আবার মানুষকে চাঁদের পৃষ্ঠে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে। ওই অভিযানে মহাকাশচারীরা চন্দ্রকক্ষপথে ওরিয়ন থেকে একটি বাণিজ্যিক ল্যান্ডারে স্থানান্তরিত হয়ে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে অবতরণ করবেন। কোন প্রতিষ্ঠানের ল্যান্ডার ব্যবহার করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট যানের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করবে।

স্টারশিপকে সম্পূর্ণ পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশ পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে স্পেসএক্স। প্রথমবার কক্ষপথে পৌঁছানোর সাফল্য সেই লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যতের চন্দ্র ও গভীর মহাকাশ অভিযানের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ