বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পেছনে কোনো ‘গোপন এজেন্ডা’ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। দেশের বিমান পরিবহন খাতের প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়েই উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও ১১টি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের বিমান বহর আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এ সিদ্ধান্তের পেছনে গোপন কোনো উদ্দেশ্য নেই এবং দেশের প্রয়োজনের ভিত্তিতেই উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ্যেই জানানো হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান বা পক্ষকে সন্তুষ্ট করার জন্য নয়, প্রয়োজন হলে এবং দেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই উড়োজাহাজ কেনা হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিকভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজের সংখ্যা বেশি। তবে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে একটি মিশ্র বহর প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
চাপের মুখে বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন ধারণাও নাকচ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, যাত্রীচাহিদা, নতুন আন্তর্জাতিক রুট এবং জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম বিবেচনায় রেখেই বহরের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হচ্ছে।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও বোয়িংয়ের মধ্যে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ ও দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়নের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য আরেকটি চুক্তি করা হয়েছিল। নতুন ১১টি যুক্ত হলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের পরিকল্পিত উড়োজাহাজ সংগ্রহের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৫টিতে। তবে নতুন ১১টি উড়োজাহাজের মডেল, মূল্য, অর্থায়নের শর্ত ও সরবরাহের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, এ নিয়ে কারিগরি মূল্যায়ন চলছে। রুটটি পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করছে সরকার।
মন্তব্যসমূহ