জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী দাবি করে তিনি বলেছেন, চাপ কিংবা হুমকির মুখে ইরান তার অবস্থান থেকে সরে আসবে না।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের দিনের বক্তব্যেরও জবাব দেন পেজেশকিয়ান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য নয়, বরং উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ প্রয়োজনে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায়। বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষি ও বিভিন্ন শিল্প খাতের উন্নয়নে এই প্রযুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার কোনো নির্দিষ্ট দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চায় না, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির অধিকার থেকেও সরে আসবে না।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ইরান সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। একই সঙ্গে দেশটির জনগণ ও ভূখণ্ড রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার কথাও জানান তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার উদ্দেশ্য হচ্ছে যেকোনো হামলা থেকে দেশকে রক্ষা করা। কোনো পক্ষ যেন ইরানের শহর ও জনগণের ওপর হামলা চালিয়ে জবাবহীন থাকার ধারণা না করে, সেজন্য দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভাষণের একপর্যায়ে সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং একটি স্কুলে হামলায় নিহত শিশুদের ছবি বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইরানি প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, গত দুই শতাব্দীতে তার দেশ কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথমে যুদ্ধ শুরু করেনি। এরপরও ইরানকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার উৎস হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিজেদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার জবাব দেওয়াকে আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান তার নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অন্য কোনো দেশের অনুমতির অপেক্ষা করবে না।
এর আগের দিন জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলে জানান এবং চুক্তি না হলে তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন।
সূত্র: রয়টার্স