জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তার সরকারি উড়োজাহাজ ‘উইং অব জায়ন’ নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ না করে নিউজার্সির কোনো বিমানবন্দর বা সামরিক ঘাঁটিতে নামতে পারে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম।
ইসরাইলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। তার বিমানটি জেএফকের পরিবর্তে নিউজার্সির একটি সামরিক ঘাঁটি অথবা নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিকল্পনার পেছনে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে নেতানিয়াহুর চলমান বিরোধের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধসংক্রান্ত অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ইসরাইল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
মামদানি এর আগে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে অবস্থান নিলেও পরবর্তী সময়ে জানান, নিউইয়র্ক সিটির নিজস্বভাবে আইসিসির পরোয়ানা কার্যকর করার আইনি ক্ষমতা নেই। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে পরোয়ানার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জেএফকে বিমানবন্দরে ‘উইং অব জায়ন’ রাখার বিষয়েও সম্ভাব্য জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প অবতরণস্থল ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। তিনি বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে পৌঁছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার পর একই দিন ইসরাইলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। নিউইয়র্কে তার রাতযাপনের কথা নেই। সফরকে ঘিরে শহরে বিক্ষোভের প্রস্তুতিও চলছে।
এর আগে নেতানিয়াহুর টেক্সাস সফরের পরিকল্পনার খবর প্রকাশ হয়েছিল। সেখানে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সম্ভাবনাও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ওই সফর পরিকল্পনা থেকে সরে আসা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘে ভাষণের আগে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি সেখানে ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে নিজের সরকারের অবস্থান তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে মামদানির সমালোচনারও জবাব দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: রয়টার্স