ঢাকা    বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চীন-পাকিস্তানের যৌথ সীমান্ত কমিশন প্রত্যাখ্যান ভারতের

চীন-পাকিস্তানের যৌথ সীমান্ত কমিশন প্রত্যাখ্যান ভারতের
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ সীমান্ত কমিশন কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক বিরোধ দেখা দিয়েছে। ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, বিতর্কিত ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে গঠিত এ ধরনের ব্যবস্থার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

সম্প্রতি ইসলামাবাদে পাকিস্তান-চীন বাউন্ডারি জয়েন্ট কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান বলছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ জরিপ, বাণিজ্য প্রবাহ এবং দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ আরও কার্যকর করতেই এই কমিশন চালু করা হয়েছে। ইসলামাবাদ এটিকে চীন-পাকিস্তান সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেও উল্লেখ করেছে।

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো বৈধ সীমান্ত রয়েছে বলে ভারত স্বীকার করে না। ফলে এই যৌথ কমিশনেরও কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে নয়াদিল্লির অবস্থান।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে শাকসগাম উপত্যকাসহ কাশ্মীর ও লাদাখের কয়েকটি এলাকা। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে একটি সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা পাঁচ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি ভূখণ্ড চীনের নিয়ন্ত্রণে যায়। ভারত শুরু থেকেই ওই চুক্তির বৈধতা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

নয়াদিল্লির দাবি, শাকসগাম উপত্যকা তৎকালীন জম্মু ও কাশ্মীরের অংশ এবং বর্তমানে এটি ভারতের দাবিকৃত ভূখণ্ড। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ ধরনের এলাকা নিয়ে তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি করার আইনগত অধিকার ইসলামাবাদের নেই।

অন্যদিকে পাকিস্তান কাশ্মীরকে একটি অমীমাংসিত ও বিতর্কিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে। চীন ও পাকিস্তানের দৃষ্টিতে ১৯৬৩ সালের সীমান্ত চুক্তির ভিত্তিতেই দুই দেশের সীমান্তসংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হয়ে আসছে।

নতুন কমিশনের মাধ্যমে সীমান্ত চিহ্নিতকরণ, সীমান্ত পিলার রক্ষণাবেক্ষণ, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় পারস্পরিক সমন্বয় আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার সুযোগ তৈরি হবে বলে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

১৯৬৩ সালের চুক্তিতে কাশ্মীর বিরোধের ভবিষ্যৎ নিষ্পত্তির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল, কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের পর সংশ্লিষ্ট ভূখণ্ডের সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন হলে চীনের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি নিয়ে পুনরায় আলোচনা করতে পারবে।

এদিকে ভারত চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপিইসিরও বিরোধিতা করে আসছে। প্রকল্পটির একটি অংশ পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় এটিকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে দেখে নয়াদিল্লি।

ভারত বলছে, পাকিস্তান ও চীনের নতুন সীমান্ত সহযোগিতা ওই ভূখণ্ডের ওপর নয়াদিল্লির দাবিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না। অন্যদিকে বেইজিং ও ইসলামাবাদের কাছে কমিশনটি মূলত বিদ্যমান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক করার একটি কাঠামো।

ফলে যৌথ সীমান্ত কমিশন কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে চীন-পাকিস্তান সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো যুক্ত হলেও কাশ্মীর ও শাকসগাম উপত্যকা ঘিরে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের দীর্ঘদিনের ভিন্ন অবস্থান আবারও সামনে এসেছে।

সূত্র: ডন

ট্যাগ : ভারত পাকিস্তান চীন

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চীন-পাকিস্তানের যৌথ সীমান্ত কমিশন প্রত্যাখ্যান ভারতের

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ সীমান্ত কমিশন কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক বিরোধ দেখা দিয়েছে। ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, বিতর্কিত ভূখণ্ডকে কেন্দ্র করে গঠিত এ ধরনের ব্যবস্থার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

সম্প্রতি ইসলামাবাদে পাকিস্তান-চীন বাউন্ডারি জয়েন্ট কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান বলছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ জরিপ, বাণিজ্য প্রবাহ এবং দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ আরও কার্যকর করতেই এই কমিশন চালু করা হয়েছে। ইসলামাবাদ এটিকে চীন-পাকিস্তান সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেও উল্লেখ করেছে।

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো বৈধ সীমান্ত রয়েছে বলে ভারত স্বীকার করে না। ফলে এই যৌথ কমিশনেরও কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে নয়াদিল্লির অবস্থান।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে শাকসগাম উপত্যকাসহ কাশ্মীর ও লাদাখের কয়েকটি এলাকা। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে একটি সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা পাঁচ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি ভূখণ্ড চীনের নিয়ন্ত্রণে যায়। ভারত শুরু থেকেই ওই চুক্তির বৈধতা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

নয়াদিল্লির দাবি, শাকসগাম উপত্যকা তৎকালীন জম্মু ও কাশ্মীরের অংশ এবং বর্তমানে এটি ভারতের দাবিকৃত ভূখণ্ড। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ ধরনের এলাকা নিয়ে তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে চুক্তি করার আইনগত অধিকার ইসলামাবাদের নেই।

অন্যদিকে পাকিস্তান কাশ্মীরকে একটি অমীমাংসিত ও বিতর্কিত অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে। চীন ও পাকিস্তানের দৃষ্টিতে ১৯৬৩ সালের সীমান্ত চুক্তির ভিত্তিতেই দুই দেশের সীমান্তসংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হয়ে আসছে।

নতুন কমিশনের মাধ্যমে সীমান্ত চিহ্নিতকরণ, সীমান্ত পিলার রক্ষণাবেক্ষণ, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় পারস্পরিক সমন্বয় আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার সুযোগ তৈরি হবে বলে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

১৯৬৩ সালের চুক্তিতে কাশ্মীর বিরোধের ভবিষ্যৎ নিষ্পত্তির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল, কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের পর সংশ্লিষ্ট ভূখণ্ডের সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন হলে চীনের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি নিয়ে পুনরায় আলোচনা করতে পারবে।

এদিকে ভারত চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপিইসিরও বিরোধিতা করে আসছে। প্রকল্পটির একটি অংশ পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় এটিকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে দেখে নয়াদিল্লি।

ভারত বলছে, পাকিস্তান ও চীনের নতুন সীমান্ত সহযোগিতা ওই ভূখণ্ডের ওপর নয়াদিল্লির দাবিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না। অন্যদিকে বেইজিং ও ইসলামাবাদের কাছে কমিশনটি মূলত বিদ্যমান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক করার একটি কাঠামো।

ফলে যৌথ সীমান্ত কমিশন কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে চীন-পাকিস্তান সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো যুক্ত হলেও কাশ্মীর ও শাকসগাম উপত্যকা ঘিরে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের দীর্ঘদিনের ভিন্ন অবস্থান আবারও সামনে এসেছে।

সূত্র: ডন


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ