ঢাকা    সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশের পণ্য

এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশের পণ্য
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের শুল্ক সুবিধা অব্যাহত থাকবে। উত্তরণের পর তিন বছরের ট্রানজিশন বা রূপান্তরকালীন সময়ে ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ তথ্য জানান।

যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিমের (DCTS) আওতায় স্বল্পোন্নত দেশগুলো ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা পায়। কোনো দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আরও তিন বছর এই সুবিধা অব্যাহত রাখার বিধান রয়েছে।

জেমস গোল্ডম্যান জানান, তিন বছরের রূপান্তরকাল শেষ হওয়ার পরও প্রায় ৯২ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। যুক্তরাজ্যের DCTS-এর Enhanced Preferences ব্যবস্থায় যোগ্য দেশগুলোর ৯২ শতাংশ পণ্য লাইনে শূন্য শুল্কের বিধান রয়েছে।

বাংলাদেশের মতো এলডিসি থেকে উত্তরণকারী দেশগুলোর জন্য বাণিজ্য সহজ করতে যুক্তরাজ্য ২০২৬ সালের শুরু থেকে পোশাক খাতের রুলস অব অরিজিন আরও নমনীয় করেছে। এর লক্ষ্য উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানির ধারাবাহিকতা সহজ করা।

বৈঠকে ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার আরও জানান, ব্রিটিশ পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সহায়তার জন্য যুক্তরাজ্য সরকার দুই বিলিয়ন পাউন্ডের একটি আর্থিক সুবিধা রেখেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশের প্রক্রিয়া, সুযোগ ও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের ধারণা দিতে চিটাগাং চেম্বারে একটি কর্মশালা আয়োজনের কথাও জানান জেমস গোল্ডম্যান।

বৈঠকে চেম্বার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক চট্টগ্রামকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এজন্য সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও সামগ্রিক লজিস্টিক অবকাঠামোয় আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

চট্টগ্রামের বড় অবকাঠামো প্রকল্প নির্মাণ ও পরিচালনার পাশাপাশি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও পরিচালনায় ব্রিটিশ বিনিয়োগের আহ্বান জানান চেম্বার প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে ফার্মাসিউটিক্যাল, স্টিল, টেক্সটাইল ও গ্রিন এনার্জির মতো খাতে যুক্তরাজ্যের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার অনুরোধ করেন তিনি।

চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্রিটিশ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে নতুন ব্রিটিশ বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

বৈঠকে চেম্বারের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের পাশাপাশি ব্রিটিশ হাইকমিশনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ এলডিসি

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশের পণ্য

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের শুল্ক সুবিধা অব্যাহত থাকবে। উত্তরণের পর তিন বছরের ট্রানজিশন বা রূপান্তরকালীন সময়ে ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ তথ্য জানান।

যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিমের (DCTS) আওতায় স্বল্পোন্নত দেশগুলো ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা পায়। কোনো দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আরও তিন বছর এই সুবিধা অব্যাহত রাখার বিধান রয়েছে।

জেমস গোল্ডম্যান জানান, তিন বছরের রূপান্তরকাল শেষ হওয়ার পরও প্রায় ৯২ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। যুক্তরাজ্যের DCTS-এর Enhanced Preferences ব্যবস্থায় যোগ্য দেশগুলোর ৯২ শতাংশ পণ্য লাইনে শূন্য শুল্কের বিধান রয়েছে।

বাংলাদেশের মতো এলডিসি থেকে উত্তরণকারী দেশগুলোর জন্য বাণিজ্য সহজ করতে যুক্তরাজ্য ২০২৬ সালের শুরু থেকে পোশাক খাতের রুলস অব অরিজিন আরও নমনীয় করেছে। এর লক্ষ্য উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে রপ্তানির ধারাবাহিকতা সহজ করা।

বৈঠকে ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার আরও জানান, ব্রিটিশ পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সহায়তার জন্য যুক্তরাজ্য সরকার দুই বিলিয়ন পাউন্ডের একটি আর্থিক সুবিধা রেখেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশের প্রক্রিয়া, সুযোগ ও প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের ধারণা দিতে চিটাগাং চেম্বারে একটি কর্মশালা আয়োজনের কথাও জানান জেমস গোল্ডম্যান।

বৈঠকে চেম্বার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক চট্টগ্রামকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এজন্য সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও সামগ্রিক লজিস্টিক অবকাঠামোয় আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

চট্টগ্রামের বড় অবকাঠামো প্রকল্প নির্মাণ ও পরিচালনার পাশাপাশি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও পরিচালনায় ব্রিটিশ বিনিয়োগের আহ্বান জানান চেম্বার প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে ফার্মাসিউটিক্যাল, স্টিল, টেক্সটাইল ও গ্রিন এনার্জির মতো খাতে যুক্তরাজ্যের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার অনুরোধ করেন তিনি।

চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্রিটিশ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে নতুন ব্রিটিশ বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

বৈঠকে চেম্বারের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের পাশাপাশি ব্রিটিশ হাইকমিশনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ