ড. আসিফ নজরুলের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, আসিফ নজরুলের একটি নয়, দুটি ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল।
পাটওয়ারী বলেন, ‘আসিফ নজরুলের ছাগল একটা খাওয়া হয়েছে, দুইটাই খাওয়া উচিত ছিল। একটা না খাওয়াতে আমি তাদেরকে ধিক্কার জানাচ্ছি, তারা আরেকটি খায়নি কেন। আসিফ নজরুল খুব ভালো মানুষ না।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল দেখলাম ইন্ট্রিম গভমেন্ট ছিল এক থেকে দেড় বছর, এর মধ্যে উনি গরু, ছাগল, মুরগি পালা শুরু করেছেন এবং যেখানে পালতো সেখানে পুলিশের সিকিউরিটিও দাঁড় করিয়েছেন।’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘আসিফ নজরুলের যারা এটা খেয়েছে, আমি মনে করি তাদের আরেকটা খাওয়া উচিত ছিল। আমাকে ফ্রেমিং করা হচ্ছে, কিন্তু আমার দোষ নাই এটাতে। যারা খেয়েছে তাদেরকে বলেছি সামনে সুযোগ পেলে আরেকটা খেতে।’
এর আগে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে নিজের মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা নিয়ে কথা বলেন ড. আসিফ নজরুল। তিনি ঘটনাটিকে তার জীবনের অন্যতম ‘হৃদয়বিদারক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আসিফ নজরুল বলেন, হেয়ার রোডের সরকারি বাসায় তিনি একা থাকতেন। তার সাড়ে ৯ বছর বয়সী ছোট মেয়ের সঙ্গী হিসেবে একটি ছাগল কিনে দেওয়া হয়েছিল। ছাগলটির সঙ্গে তার মেয়ের গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়।
তিনি জানান, প্রতিদিন তার মেয়ে স্কুলে গেলে ছাগলটি তার ফেরার অপেক্ষায় থাকত। স্কুল থেকে ফিরে মেয়েটি ছাগলটির সঙ্গে খেলাধুলা করত।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, তার মেয়ের সঙ্গে ছাগলটির সম্পর্ক এতটাই গভীর ছিল যে, মেয়েটি নিজের মোবাইল ফোনের ওয়ালপেপারে মায়ের ছবির পরিবর্তে ছাগলটির গলা জড়িয়ে ধরে থাকা একটি ছবি ব্যবহার করত।
ছাগলটি চুরি হওয়ার পর তার মেয়ে প্রচণ্ড ট্রমাটাইজড হয়ে পড়ে বলেও জানান আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটি বমি করে দেয় এবং টানা দেড় দিন কিছু না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
আসিফ নজরুল বলেন, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে প্রচার করা হলেও মূলত মজা করার জন্যই ছাগলটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে একটি শিশুর পোষা প্রাণী চুরি করে খেয়ে ফেলার ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত নির্মম ও অমানুষিক বলে উল্লেখ করেন।