সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের কাছে বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে অর্থ পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যুগান্তরের একটি প্রতিবেদনে তাঁর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, দেশে থাকা বাড়িভাড়া ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে এই অর্থ পাঠানো হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নানক বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতায় ভাড়া করা একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। বাংলাদেশে তাঁর সম্পদ ও ব্যবসার দেখভাল করছেন ঘনিষ্ঠ কয়েকজন। তাঁদের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ভারতে পৌঁছানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
যুগান্তরের দাবি, বরিশাল ও ঢাকায় থাকা বাড়ি এবং অন্যান্য সম্পদ থেকে নিয়মিত আয় হচ্ছে। বরিশালের গ্লোবাল ভিলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের একটি অংশও ভারতে পাঠানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অর্থ স্থানান্তরের ব্যাংক নথি বা তদন্তকারী সংস্থার সিদ্ধান্ত সরবরাহ করা সংবাদপাঠে উল্লেখ নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বরিশালের দুই ব্যবসায়ীর মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। ঢাকার আয় পাঠাতে সীমান্ত এলাকার একটি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের মালিকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। এই কার্যক্রমে নানকের ঘনিষ্ঠজনেরা সমন্বয় করেন বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
সম্পদের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রতিবেদনটি। সেখানে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনি হলফনামায় নানক ও তাঁর স্ত্রীর মোট সম্পদ ছিল ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের হলফনামায় তা প্রায় ১৯ কোটি টাকা দেখানো হয়। এই হিসাবে ঘোষিত সম্পদ আগের প্রায় ৩০ গুণ হয়েছে।
এ ছাড়া কিছু সম্পত্তি ও আয় হলফনামা এবং করের হিসাবে উল্লেখ না করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট হলফনামা, কর নথি ও সম্পত্তির দলিল যাচাই প্রয়োজন।
নানকের বক্তব্য জানতে তাঁর পরিচিত ফোন নম্বরগুলোতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে যুগান্তর। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও উত্তর পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।