যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার নির্বাহী সহকারী ন্যাটালি হার্পের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করা ৩৫ বছর বয়সী হার্পের একটি ব্যক্তিগত চিঠির তথ্য প্রকাশের পর তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কটল্যান্ড সফরের সময় ট্রাম্পকে একটি ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়েছিলেন হার্প। সেখানে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বিষয়ে আবেগঘন বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কটল্যান্ডে ট্রাম্পের গলফ কার্টের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে সমস্যায় পড়ার পর হার্প ওই চিঠি লেখেন। প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে ট্রাম্পের গলফ কার্টের পেছনে দীর্ঘ পথ দৌড়াতে দেখা গেছে বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
চিঠিতে হার্প লেখেন, গলফ কোর্সে হাঁটার সময় কোনোভাবে ট্রাম্পকে বিব্রত করে থাকলে তিনি দুঃখিত। তিনি তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ভালো রাখার ইচ্ছার কথাও জানান।
চিঠিতে হার্প আরও উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্টের কাজে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে গিয়ে তিনি নিজের খাওয়া ও ঘুমের দিকেও ঠিকমতো নজর দিতে পারছেন না। চিঠির শেষে তিনি আবেগপূর্ণ ভাষায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনী জয়ের পর থেকেই ন্যাটালি হার্পকে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, ট্রাম্পের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে হার্পের ভূমিকা বাড়তে পারে।
হার্প এর আগে ট্রাম্পকে লেখা আরেকটি চিঠিতেও নিজের গভীর আনুগত্যের কথা প্রকাশ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন দায়িত্বে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলে রয়েছেন ন্যাটালি হার্প। তিনি একসময় হাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং ট্রাম্পের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে তার এই বক্তব্য নিয়েও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এদিকে হার্পের ভাই প্রেস্টন হার্প তাদের সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তার বোন ট্রাম্পের প্রতি গভীরভাবে প্রভাবিত বা মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন বলে মনে হয়। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বোনের শারীরিক সম্পর্কের কোনো ধারণা তিনি সমর্থন করেননি।
প্রেস্টন আরও বলেন, ট্রাম্পের প্রতি হার্পের আনুগত্যের পেছনে কৃতজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বা ন্যাটালি হার্পের পক্ষ থেকে নতুন কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
মন্তব্যসমূহ